কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে প্রশাসনিক ও নাবিক নিবাস ভবন উদ্বোধন করছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) রিয়াল অ্যাডমিরাল এম আশরাফুল হক চৌধুরী। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নে নাফনদী তীরবর্তী কেরুনতলী এলাকায় ভবনগুলো উদ্বোধন করেন। পরে মুজিব শতবর্ষ উদযাপনে বৃক্ষ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয় ৫০ জন জেলেদের মাঝে রেডিও, লাইভ জ্যাকেট, রেইনকোর্ট, টর্চ লাইট, লাইফবয়সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন ডিজি।

ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, টেকনাফ ২ জিবিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার ও টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী ও কোস্ট গার্ড স্টেশন কর্মকর্তা লে. কমান্ডার নাঈম উল হক প্রমুখ।

কমান্ডার ক্যাপ্টেন কাজী শাহ আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দশনায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সীমান্তের জল-স্থলপথে 'জিরো টলারেন্স' নীতিতে নতুন মাদক ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ইয়াবাসহ মানবপাচার রোধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে টেকনাফ স্টেশন এই বছরে ১২০ কোটি টাকার ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক উদ্ধারে সফল হয়েছে। এটা সীমান্তে জনপদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এতদিন এই অঞ্চলে সীমিত জনবল নিয়ে কোস্ট গার্ড পাচঁ বছরে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার মাদকসহ বিভিন্ন চোরাচালন মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এসব প্রশাসনিক ও নাবিক নিবাস ভবন উদ্বোধনে মাধ্যমে এ স্টেশনের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। বিশেষ করে ইয়াবা নতুন প্রজম্মকে ধ্বংস করছে। এছাড়া নতুন যেসব মাদক আসছে সেগেুলো নিয়ন্ত্রণে অভিযান জোরদার করব, যাতে বাংলাদেশ প্রজম্মের কাছে মাদক যাতে পৌঁাঁতে না পারে। মাদক কারবারিরা নতুন কৌশলে অবলম্বন করছে, সেটি আমরা অবগত। এর-প্রতিকারে আমারা কাজও করে যাচ্ছি। পাশাপাশি সমুদ্র-বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং জাটকা ও মা ইলিশ নিধন প্রতিরোধে সফল ভূমিকা পালন করছে কোস্ট গার্ড।’

কোস্ট গার্ড টেকনাফ স্টেশন জানায়, টেকনাফ সীমান্তের জল-স্থলপথে বিভিন্ন জায়গায় অভিযানে চলতি বছরে জানুায়রি নভেম্বর পর্যন্ত ১ কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭০৮ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ১১ হাজার ৯৪৯ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৬১ বোতল বিদেশী মদ, ৭৩ কেজি গাঁজা, ৩ কেজি ২৮৭ গ্রাম স্বর্ণ , ৩টি পিস্তল, ১২টি দেশীয় বন্দুক, ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।