ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) হলে নতুন সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ সাপেক্ষে হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

কয়েকটি ধাপে আগামী তিন দিনের মধ্যে কলেজের সব শিক্ষার্থীকে হলে ওঠার অনুমতি দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে এখন প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরাই কেবল হলে ওঠার অনুমতি পাবেন। এরই অংশ হিসেবে রোববার চমেকের প্রধান হোস্টেলে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের।

চমেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তার সমকালকে জানান, নতুন সিট বরাদ্দের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ধাপে ধাপে হলে ওঠার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। শুরুতে কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা হলে ওঠার অনুমতি পাচ্ছে। প্রতিদিন নতুন এক একটি বর্ষের শিক্ষার্থীরা হোস্টেলে উঠবেন। সে হিসেবে রোববার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

গত ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় হোস্টেলের সব সিটের বরাদ্দ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের নতুন করে আবেদনের জন্য বলা হয়। 

কলেজের হোস্টেল কমিটির এক সদস্য বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় বহিষ্কার হওয়া ৩১ নেতাকর্মী হলে আসন পাবেন না। আপাতত প্রতিটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সিট একসঙ্গে রাখা হয়েছে। মারামারি-সংঘর্ষের সাঙ্গে জড়িত ও অভিযুক্তদের কারও হলে থাকার আবেদন গ্রহণ করেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষে তিনজন আহত হওয়ার ঘটনায় গত ৩০ অক্টোবর অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ওইদিনই শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

সংঘর্ষে জড়ানো ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের মধ্যে একটি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী এবং অন্যটি সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। হামলার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি তিনটি মামলা করা হয়। 

এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৩ নভেম্বর দুই গ্রুপের ৩১ ছাত্রকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

এর মধ্যে ২৩ জন এমবিবিএস শিক্ষার্থী এবং আটজন বিডিএস শিক্ষার্থী। দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আঘাত পান কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহাদি জে আকিব। হামলায় থেঁতলে ভেঙে দেওয়া হয় আকিবের মাথার হাড়। এতে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয় তার ব্রেন। 

ঘটনার দিনই চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয় আকিবকে। করা হয় অস্ত্রোপচারও। গত ১৮ নভেম্বর আকিব চমেক হাসপাতালের আইসিইউ থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন। আকিব চমেকের এমবিবিএস ৬২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।