বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর চরাঞ্চলে নিখোঁজ হওয়ার দু'দিন পর রাজ মামুন (৯) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে উপজেলার চর পাঁচবাড়িয়ার একটি ধানক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ফরিদুল (২৮) নামে এক দিনমজুরকে ঢাকার সাভার থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান।

নিহত রাজ মামুন সারিয়াকান্দি উপজলার বেড়া পাঁচবাড়িয়া এলাকার সুলতান শেখের ছেলে। গ্রেপ্তার ফরিদুল রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার চররহমত এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে।

পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ফরিদুল জানান, নানা কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে তিনি বগুড়া সদরের এরুলিয়া এলাকায় ধান কাঁটতে আসেন। কাজ না পেয়ে গত ৫ ডিসেম্বর তিনি পূর্বপরিচিত যমুনা নদীর চর জামথল এলাকায় যান। সেখানেও কাজ না পেয়ে জামথল বাজারের মুদি দোকানদার আজাহারের কাছে গেলে সেখানে একদল ছেলেকে খেলতে দেখে অপহরণের চিন্তা মাথায় আসে তার। তাদের মধ্যে রাজ মামুনকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন তিনি। রাতে মামুন মসজিদে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ফরিদুল তাকে ঘুঘুর বাচ্চা দেওয়ার কথা বলে একটি গাছের নিচে নিয়ে যান। রাত গভীর হলে শিশুটি চিৎকার শুরু করে। এতে ধরা পড়ার ভয়ে মামুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে শিশুটির মরদেহ পাশের ধানক্ষেতে ফেলে রেখে আজাহারের মোবাইল নম্বর নিয়ে ওই গ্রাম ছেড়ে চলে যান ফরিদুল। পরদিন তিনি আজাহারকে ফোন দিয়ে শিশুটির বাবার সঙ্গে কথা বলতে চান। আজাহার ফোনটি সুলতান শেখকে দিলে ফরিদুল তার ছেলেকে অপহরণের কথা জানিয়ে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

পুলিশ সুপার জানান, ৭ ডিসেম্বর সকালে শিশুটির বাবা সুলতান শেখ ছেলেকে অপহরণের অভিযোগে সারিয়াকান্দি থানায় মামলা করেন। মামলা তদন্তে সারিয়াকান্দি থানার পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশকেও (ডিবি) দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর প্রযুক্তির সহায়তায় ওইদিনই অভিযুক্ত ফরিদুলকে ঢাকার সাভার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।