কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে হেরে যাওয়া আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফজলুল হক কবিরাজ পরিকল্পিতভাবে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আ কা ম সরওয়ার জাহান বাদশাহসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যাচার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার সন্ধ্যায় ফিলিপনগর দারোগার মোড়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সম্প্রতি সংসদ সদস্য (কুষ্টিয়া-১) সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ ও স্থানীয় অন্যান্য নেতাদের ঘিরে ইউপি নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন হেরে যাওয়া আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফজলুল হক কবিরাজ। এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগপত্র কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগেও দেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়, ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি নেতা নইমুদ্দিন সেন্টুর স্বজনদের কাছে থেকে টাকা ও ফ্ল্যাট নিয়ে ফজলু কবিরাজকে হারিয়েছেন এমপি ও ইউনিয়নের অন্যান্য নেতারা। এই অভিযোগ শুধু মিথ্যাই না, মনগড়া ও ভিত্তিহীন।

ফিলিপনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অবাধ,  সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছেন পরাজিত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলু কবিরাজ

সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে সম্পূর্ণ মনগড়া গল্প বলে দাবি করে তিনি বলেন, এমপি বাদশাহ্ ২০১৭ সালে রিয়েল এস্টেট কোম্পানি থেকে রাজধানীতে একটি ফ্ল্যাট কেনেন এবং ২০২০ সালে ফ্ল্যাটের টাকা পরিশোধ হওয়ার পর ২০২১ সালের মে মাসে সেটি নিবন্ধন করা হয়। এর আগে এমপি বাদশাহ্ ভাড়া করা বাসায় থেকে তার আইনজীবী পেশার কাজ করে আসছিলেন। গেল আড়াই বছরের বেশি সময় তিনি সপরিবারে রাজধানীতে ওই বাসায় থাকেন।

এমন বিষয় নিয়ে অবান্তর মিথ্যাচারের জন্য ফজলু হক কবিরাজকে এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। একইসঙ্গে নেতাদের নিয়ে মিথ্যাচার করায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান হায়দার আলী।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নইমুদ্দিন সেন্টু বর্তমানে আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। ফিলিপনগর এলাকার আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে কাজ করলেও দীর্ঘ বছর ধরে সেন্টু দলের জন্য কাজ করে আসছেন। এবারের নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে স্বতন্ত্র ভোট করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফজলুল হককে দাবার গুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে চাইছে। নৌকার পরাজিত প্রার্থী ফজলুল হকের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তারা বলেন, সর্বনাশী খেলা বন্ধ করুন।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সরদার আতিক, ছাদিকুজ্জামান খান, মাহবুবুর রহমানসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টিতে পরাজিত হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বিজয়ী হয় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, যাদের মধ্যে ৯ জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।