অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গত শুক্রবার রাতে কন্যাসন্তান জন্ম দেন আফরোজা আক্তার। এ সময় ২৫ বছর বয়সী ওই নারীর পেটে টিউমার দেখতে পান অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক খায়রুল হাসান। টিউমারটি অপসারণের জন্য বাড়তি তিন হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। সেই টাকা দিতে দেরি হওয়ায় টিউমার অপসারণ না করেই প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর রোগীর পেটে সেলাই করে দেন ওই চিকিৎসক। মানিকগঞ্জ শহরের ওয়্যারলেস গেট এলাকার বেসরকারি ক্লিনিক হেলথ কেয়ার মেডিকেল সেন্টারে ঘটেছে অমানবিক এ ঘটনা।

ভুক্তভোগী আফরোজা আক্তার জেলার সাটুরিয়া উপজেলার নয়াডিঙ্গী গ্রামের নাঈম ইসলামের স্ত্রী। এ ঘটনায় জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. রুমা আক্তারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


ডা. খায়রুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার করে আসছেন। জেলা পুলিশ লাইন্সের সামনে ডক্টর ক্লিনিক নামের একটি ক্লিনিকের মালিকও তিনি।


ভুক্তভোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এক দালালের মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা আফরোজাকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত ২টার দিকে তাকে ক্লিনিকের অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। এ সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তার অস্ত্রোপচারের জন্য জেলা শহরের চিকিৎসক খায়রুল হাসান ও অবেদনবিদ (অ্যানেসথেসিস্ট) আশিকুর রহমানকে কল করে ডেকে আনে। অস্ত্রোপচারের সময় আফরোজার পেটে (জরায়ুর পাশে) একটি টিউমার দেখতে পান ডা. খায়রুল। এরপর ওই নারীর স্বজনের কাছে বাড়তি তিন হাজার টাকা দাবি করেন তিনি।

আফরোজার স্বামী নাঈম ইসলাম বলেন, আমি ও পরিবারের সদস্যরা ডা. খায়রুলকে বারবার অনুরোধ করি টিউমার অপসারণের জন্য। ক্লিনিকের লোকজনও তাকে অনুরোধ করেন। কিন্তু রোগীর পেটে টিউমার রেখেই সেলাই করে তিনি চলে যান।

ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান বলেন, ডা. খায়রুল হাসানকে অনুরোধ করে বলেছি- রোগীর স্বজনরা টাকা না দিলে আমি তাকে টাকা দেব। তারপরও তিনি তা না করে পেটের মধ্যে টিউমার রেখেই সেলাই করে চলে যান। এটি অত্যন্ত অমানবিক।

টিউমার অপসারণ না করে সেলাইয়ের বিষয়ে গতকাল ডা. খায়রুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'একটি অপারেশন, আর দুটি অপারেশনের চার্জ এক নয়। টিউমার অপারেশন করার জন্য বাড়তি চার্জ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনরা যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত জানাতে না পারায় টিউমার রেখেই সেলাই করা হয়েছে।'

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. লুৎফর রহমান জানান, ঘটনা সত্য হলে ওই চিকিৎসক যা করেছেন, তা অত্যন্ত অমানবিক। এ ঘটনায় সোমবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রমাণ পেলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।