কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহা খুনের ইন্ধনদাতা স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে খুঁজছে পুলিশ।

ঘটনার পর ওই নেতা এলাকা থেকে পালিয়ে যায় এবং তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। পুলিশের ধারণা, তাকে ধরতে পারলে মূল পরিকল্পনাকারীকেও খুঁজে পাওয়া যাবে।

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি সত্যজিৎ বড়ুয়া সমকালকে জানান, সোমবার সকালে কাউন্সিলর সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহা খুনের মিশনে সরাসরি অংশ নেওয়া আলম মিয়া, আশিকুর রহমান রকি, মাসুম ও জিসানকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। 

গ্রেপ্তারের পর গত ৬ ডিসেম্বর আদালতে তুলে রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত তাদের প্রত্যেকের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল। 

এদিকে আসামি সোহেল ওরফে জেল সোহেল ও সায়মন রোববার রাতে কুমিল্লার আমলি আদালত-১-এর বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চন্দন কান্তি নাথের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে তারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়া এজাহারভুক্ত ৫ জন ও এজাহার বহির্ভূত আরও একজনের নাম তারা প্রকাশ করেছেন। ব্যক্তিগত বিরোধ ও মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে সোহেলকে খুন করা হয় বলে জবানবন্দিতে বলা হয়। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া জেল সোহেল তার জবানবন্দি জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত আসামি শাহ আলম, সাব্বির ও সাজনসহ ৪ জন মিলে মৃত্যু হওয়া পর্যন্ত কাউন্সিলর সোহেলের ওপর গুলি চালানো হয়। কিন্তু হরিপদকে তাদের মারার ইচ্ছা ছিল না। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকায় তাদের গুলিতে সেও গুলিবিদ্ধ হয়।

জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঘটনার দিন কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলের অফিসে প্রধান আসামি শাহ আলমের নেতৃত্বে জেল সোহেল, সাব্বির হোসেন ও সাজনসহ চার জন প্রবেশ করে। অন্যান্যরা সশস্ত্র অবস্থায় বাইরে পাহারারত ছিল। ঘটনার আগের দিন কাউন্সিলর সোহেলকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল কিলারদের। কিন্তু ওইদিন সে তার কার্যালয়ে না থাকায় সেদিনের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন বাবুলকে জেলা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। 

এ বিষয়ে জেলা ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে কমিশনার বাবুল নিহত কাউন্সিলর সোহেলকে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে দাবি করেন। তিনি পুলিশকে যেসব তথ্য দিয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

ডতদন্তকারী কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ২ ডিসেম্বর গভীর রাতে, ৩ নং আসামি সাব্বির হোসেন ও ৫ নং আসামি সাজন ৩০ নভেম্বর গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছেন। 

গত ২২ নভেম্বর বিকালে নগরীর পাথুরিয়াপাড়া এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহা। 

এ ঘটনায় কাউন্সিলর সোহেলের ভাই বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।