নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বাসচাপায় রিয়াদ হোসেন (২২) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার বন্ধু রূপক। রোববার রাতে মোটরসাইকেলে দুই বন্ধু যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।

সোমবার সকালে নিজ বাড়ি উপজেলার চানগাঁও গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে রিয়াদকে দাফন করা হয়। তিনি উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাজু মিয়ার ছেলে।

পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সোমবার দুপুরে পরীক্ষা শেষে মদন পৌরসভার প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন নিহতের সহপাঠীরা। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে নিরাপদ সড়কের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেন পরীক্ষার্থীরা। তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বুলবুল আহমেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রদের নিয়ে বিকেলে তার কার্যালয়ে কথা বলার আশ্বাস দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে মদন-নেত্রকোনা সড়কে সোমবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বন্ধু রূপককে নিজের মোটরসাইকেলে বাড়ি পৌঁছে দিতে যান রিয়াদ। মদন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে গেলে ঐশী এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বাস পেছন দিক থেকে তাদের চাপা দেয়। এতে রিয়াদ ও রূপক দু’জনই গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মদন হাসপাতালে নিয়ে যান। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় মদন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথেই রিয়াদ মারা যান।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম সমকালকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় রিয়াদ নামে এক শিক্ষার্থী মারা গেছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়নি। এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ সমকালকে বলেন, বাসচাপায় রিয়াদ নামের এক ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে  দুপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে। তাদের সঙ্গে কথা বলব বলে আশ্বাস দিয়েছি। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।