শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ও হাতীবান্ধা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়নসহ নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বিএনপি ও ছাত্রদল নেতা। এ নিয়ে এলাকায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা ও সাংবাদিক সম্মেলন অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান লেবুর সই জাল করে সভাপতি আলহাজ এসএস আবদুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষর নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নামের তালিকা পাঠান। ওই তালিকায় এক নম্বরে নাম থাকায় হাতীবান্ধা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ও নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন বিএনপি নেতা ওবাইদুল ইসলাম। তিনি বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত ২ নম্বর হাতীবান্ধা ওয়ার্ড কমিটির ২১ নম্বর সদস্য। এখনও তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেননি বা আওয়ামী লীগে যোগদানও করেননি।

অন্যদিকে একইভাবে ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন ধানশাইল ইউনিয়নের সদ্য বিলুপ্ত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর রহমান এনামুল। তিনিও ছাত্রদল থেকে পদত্যাগ করেননি বা আওয়ামী লীগে যোগদান করেননি।

আওয়ামী লীগের দাড়িয়ারপাড় ওয়ার্ড শাখার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান শাহীন মিয়া বলেন, 'অনুমোদনহীন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভার রেজুলেশন খাতায় আমাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। পরে রেজুলেশনে কী লিখেছে তা আমরা জানি না বা আমাদের জানানো হয়নি। এখন দেখি ছাত্রদল নেতা এনামুল নৌকা প্রতীক পেয়েছে। আমরা বিএনপির লোকের নির্বাচন করব না। সভাপতি নাইম নৌকা প্রতীক এনে দিয়েছেন। তিনি নৌকা পাস করাবেন।'

এ ব্যাপারে ধানশাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, 'মাদক মামলার আসামি ছাত্রদল নেতা এনামুল হককে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দুঃখজনক। আমি দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে বিএনপি নেতাকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।' 

অপরদিকে হাতীবান্ধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ মকবুল হোসেন বলেন, 'হাতীবান্ধা ইউনিয়নে যাকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়েছে সেই ওবাইদুলকে আমরা চিনি না। আমরা তাকে কোনো দিন আওয়ামী লীগ করতে দেখিনি।'

নৌকা প্রতীক পাওয়া নয়াপাড়া গ্রামের এনামুল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমি ২০০১ সাল থেকে ছাত্রলীগ করি।' হাতীবান্ধার ওবাইদুল ইসলাম বলেন, 'আমি কখনও বিএনপির সভাপতি ছিলাম না। আমি আওয়ামী লীগের সঙ্গেই আছি।'

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আমিরুজ্জামান লেবু বলেন, 'আমার স্বাক্ষর জাল করে প্রার্থীদের নামের তালিকাসহ ভুয়া রেজুলেশন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। আমি এর বিচার চেয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ এসএস আবদুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম বলেন, 'ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রেজুলেশনসহ প্রার্থীদের তালিকা জমা দিয়েছি। দলীয় মনোনয়নসহ প্রার্থীদের নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।'

শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফজলুল হক সভাপতি বরাবর ডিও লেটার দিয়ে বলেন, 'এরা দুজনই বিএনপির লোক। এদের আমি নৌকার নির্বাচন করতে দেখিনি।'