নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা হোসনে আরা খাতুন (৫৮)। স্বামী আব্দুর রহমানের মৃত্যুর পর দুই ছেলে, দুই মেয়েকে নিয়ে কোনো রকমে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। 

কিছুটা সচ্ছলতার আশায় ২০১৯ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাকস থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি গরু কেনেন হোসনে আরা। এরই মধ্যে করোনা সংকটে পড়ায় ওই ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন তিনি। 

ওই এনজিওর কর্মীরা কিস্তি পরিশোধের জন্য তাকে বারবার তাগাদা দিয়ে আসছিল। কিস্তি পরিশোধের জন্য এনজিও কর্মীদের কাছে আরও কিছুদিন সময় চেয়েছিলেন হোসনে আরা। তবে তারা তা শোনেনি। কিস্তির টাকা না দেওয়ায় গত শনিবার নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে হোসনে আরা ও তার চার ছেলেমেয়ের ওপর। মারধর করে আহত করা হয়েছে তাদের। হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে বাড়ির দরজা-জানালা। এর পর গরুটিও নিয়ে গেছে তারা।

এ ঘটনায় ঋণগ্রহীতা হোসনে আরার ছেলে সুমন মিয়া বাদী হয়ে এনজিও কর্মীদের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। আহত পাঁচজন বর্তমানে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে চিকিৎসাধীন।

জানা গেছে, শনিবার সকালে জাকসের ব্যবস্থাপক মাসুম করিম, মাঠকর্মী আনিছুর রহমানসহ আরও ৫-৬ জন হোসনে আরার বাড়িতে গিয়ে তাৎক্ষণিক কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে বলে। হোসনে আরা আরও কিছুদিন সময় চেয়ে মৌখিক আবেদন করলেও তারা শোনেনি।

তবে এনজিও জাকসের ব্যবস্থাপক মাসুম করিম হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ঋণের কিস্তির টাকা চাইতে গেলে উল্টো তাদের ওপরেই হোসনে আরার পরিবার চড়াও হয়।

পত্নীতলা থানার ওসি শামসুল আলম শাহ্‌ জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।