দলের কেন্দ্রীয় কমিটির একটি সভায় উপস্থিত না থাকায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের দুইবারের নির্বাচিত মেয়র ও মনিরুল হক সাক্কুকে কেন্দ্রীয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির পদ থেকে অব্যাহিত দেয়া হয়েছে। তাছাড়াও দলীয় কর্মসূচিতে নিস্কিয় থাকার অভিযোও রয়েছে সাক্কুর বিরুদ্ধে। 

সাক্কু বর্তমানে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে রয়েছেন। তবে এ কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে অনেক আগেই। 

সোমবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের এ খবর নিশ্চিত করেন। 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই দলের জেলা ও জাতীয় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ না করার অভিযোগ ছিল মেয়র সাক্কুর বিরুদ্ধে। তবে সম্প্রতি কেন্দ্রের একটি যোগ না দেয়ায় কার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

সূত্র জানায়, দলের কর্মকৌশল ঠিক করতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে গত ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর মতবিনিময় সভা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদেরও। এর মধ্যে ২২ সেপ্টেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কুমিল্লা বিভাগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেননি সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। পরে এ নিয়ে দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত হয় তাকে সদস্য পদ থেকে বাদ দেওয়ার। 

ওই অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য সাক্কুকে চিঠি দেয় কেন্দ্র। কিন্তু চিঠির জবাবে সন্তোষ্ট হতে পারেনি কেন্দ্র। তাই তাঁকে সদস্য পদ থেকে বাদ দেয়া হয়। 

বিষয়টি স্বীকার করে এ বিষয়ে সোমবার রাতে মেয়র সাক্কু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি চিঠির  উত্তর দিয়েছিলাম, আমি তো ইচ্ছে করেই সভায় অনুপস্থিত থাকিনি। সেই দিন আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের সাথে আমার বৈঠক ছিল। যেদিন বৈঠক তার দুই দিন আগে ঢাকা থেকে চিঠি আসছে মিটিংয়ের। এ জন্য আমি যেতে পারিনি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ৪০ বছর বিএনপি করি। বিএনপিতে কি আমার অবদান নেই ? দলে রাখা না রাখা তারেক রহমান সাহেবের ব্যাপার। পার্টির সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তারা যা খুশি তা করুক। আমি আমার মতো চলছি।’ 

কেন্দ্রীয় সদস্য পদ হারালেও সাক্কু এখনো কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে রয়েছেন। 

তাকে এ পদও হারতে হবে কি না এ বিষয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন সমকালকে বলেন, ‘বিষয়টি একান্ত কেন্দ্রের বিষয়, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতারাই ভালো বলতে পারবেন। আমি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না, আপনারা (সাংবাদিক) যা শুনেছেন আমিও তাই শুনেছি।’