নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী মঙ্গলবার শেষ অফিস করেছেন। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তবে এ পদে ভারপ্রাপ্ত বা প্রশাসক হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। বিকেল সাড়ে ৪টায় অফিস শেষে তিনি নগর ভবন থেকে বেরিয়ে যান। মেয়র হিসেবে তিনি টানা ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই সিটি করপোরেশনের তৃতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন ডা. আইভী। আজ বুধবার শেষ দিনে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। তিনি বলেছেন, 'যেহেতু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি, তাই রীতি অনুযায়ী পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। কারও কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করিনি। মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।'

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিন সমকালকে বলেন, মেয়রের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো চিঠি পাননি।

ডা. আইভী ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার শেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থনে চেয়ারম্যান হন। তিনি ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ওই বছরের ৫ মে নারায়ণগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরের কদমরসুল পৌরসভা বিলুপ্ত করে তিন পৌরসভার এলাকা একীভূত করে গঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। ওই বছরের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে নাগরিক পরিষদ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী একেএম শামীম ওসমানকে পরাজিত করে দেশের কোনো সিটি করপোরেশনের প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হন।

তিনি দেশের কোনো পৌরসভারও প্রথম নারী মেয়র। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে ডা. আইভী বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে পরাজিত করে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন।