পরকীয়ার অভিযোগ ও দাম্পত্য কলহের জেরে বেধড়ক পিটিয়ে স্ত্রীর ভ্রু ও মাথার চুল কেটে দিয়েছেন স্বামী। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। স্ত্রীর অভিযোগ, স্বামীর পরকীয়ার ব্যাপারে প্রতিবাদ করায় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। অন্যদিকে স্বামীও স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ করেছেন। এমনকি দু’মাস আগে স্ত্রী এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। আর স্ত্রীকে নির্যাতনের ব্যাপারে স্বামী বলেন, স্ত্রীর সৌন্দর্য নষ্টের জন্য চুল ও ভ্রু কেটে দিয়েছেন। 

রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ওই নারীকে ভর্তি করেন তার স্বজনরা। গত সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের খাস সাতবাড়িয়া গ্রামে ওই নারীকে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। 

রোববার দুপুরে সরেজমিনে গেলে জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘নারীর বাম হাত, বাম উরু এবং দুই নাকে ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। তার চুল ও ভ্রু কাটা রয়েছে। ফিমেল সার্জারি ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছে।’ 

ওই নারীর স্বামী মেহেদী হাসান সুজন জেলার শাহজাদপুর উপজেলার খাস সাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। সদ্য প্রয়াত সেনা সদস্য আব্দুর রশিদের ছেলে তিনি। বর্তমানে সাভারের গ্যানডায় জেকে গ্রুপ নামে একটি বেসরকারি গার্মেন্টসের কর্মী সুজন। অন্যদিকে ওই স্ত্রীর গ্রামের বাড়ি জেলার তাড়াশ উপজেলা সদরে। 

ওই স্ত্রী অভিযোগ করেন, তার স্বামী মেহেদী হাসান সুজনের একাধিক পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সাভারের সংসারে প্রায়ই ঝগড়া হতো তাদের মধ্যে। এরই জেরে স্বামী জোরপূর্বক তাকে মেরে সাভার থেকে শাহজাদপুরের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। গত ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফা বেধড়ক মারপিট করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সহযোগিতায় তার মাথার চুল ও ভ্রু কেটে দেওয়া হয়।  এরপর তার মা ও মামা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

শাহজাদপুরের খাস সাতবাড়িয়া গেলে সুজনের ভগ্নিপতি রবিউল ইসলাম জানান, শ্যালক সুজন বাড়ি নেই। 

প্রতিবেশী কবির হোসেন জানান, সুজন ও স্ত্রী ঢাকার সাভারে থাকতেন। সম্প্রতি হঠাৎ বাড়ি এসেছে।

এদিকে সুজন মোবাইলে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার উঠতি বয়সের দুই মেয়ের সামনেই বাড়িতে থেকে বিভিন্ন ছেলেদের সঙ্গে মোবাইলে নোংরা কথা বলতো সে। দু’মাস আগে সে এক ছেলের সঙ্গে পালিয়েও যায়। বিষয়টি তার মা ও মামারাও জানে। মূলত তাদের পরামর্শেই তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে রেখে আসি। গ্রামে গিয়েও তার নোংরামি বন্ধ হয়নি। তার সৌন্দর্য নষ্টের জন্য তার চুল ও ভ্রু কেটে দিই।’ 

পরকীয়ার অভিযোগের ব্যাপারে সুজন দাবি করেন, তাকে ফাঁসাতে এখন এসব কথা বলছেন স্ত্রী ও তার স্বজনরা।  

তবে মেয়ের মা বলেছেন, মেয়ের মুখে শুনেছি ছেলের একাধিক সম্পর্ক আছে। এই নিয়ে ঢাকায় থাকতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গণ্ডগোল হয়। পরে কৌশলে মেয়েকে গ্রামে নিয়ে আসে এবং পরিবারের লোকজন নিয়ে তাকে নির্যাতন করে চুল কাটে। 

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, ‘বিষয়টি অবগত নই। কেউ এ বিষয়ে অভিযোগও দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’