চট্টগ্রামের 'ফুসফুস' হিসেবে পরিচিত 'সিআরবি'র প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই সেটির নাম 'বঙ্গমাতা'র নামে করার অনুমতি দিয়েছে 'জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট।' তবে এ হাসপাতাল সিআরবিতে কোনোভাবেই করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনরত নাগরিক সমাজের নেতারা।

সোমবারও সিআরবি রক্ষার দাবিতে সেখানে সাত রাস্তার মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে নাগরিক সমাজ।

গত ৯ জুলাই সমকালে "চট্টগ্রাম নগরীর 'ফুসফুসে' গাছ কেটে হাসপাতাল নির্মাণ" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর সিআরবির প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় চট্টগ্রামে সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। প্রায় ছয় মাস ধরে সিআরবি রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বিভিন্ন সংগঠন।

এ ব্যাপারে নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামের সদস্য সচিব ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল সমকালকে বলেন, 'আমরা চট্টগ্রামবাসী কখনোই হাসপাতালের বিরুদ্ধে নই। আর সেটি যদি হয় বঙ্গমাতার নামে, তাহলে তো কথাই নেই। তবে হাসপাতালটি সিআরবিতে কেন করা হবে? সিআরবি ছাড়া চট্টগ্রামে রেলের অন্য কোনো জায়গায় এ হাসপাতাল হলে আমাদের আপত্তি থাকবে না। তা ছাড়া একটি বেসরকারি হাসপাতালের নাম-ই বা কেন বঙ্গমাতার নামে করা হবে? সরকার আরও বড় কোনো হাসপাতাল করে বঙ্গমাতার নামে রাখলে বরং আরও ভালো হবে।'

এ প্রসঙ্গে সংগঠনের কো-চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুস বলেন, 'বঙ্গমাতার নামে হাসপাতালের নাম রাখার বিষয়টি রেলের একটি অপকৌশল। তবে যত অপকৌশলই নেওয়া হোক, তাতে কোনো কাজ হবে না।'

বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, 'বঙ্গমাতা'র নামে হাসপাতালের নাম রাখার অনুমতি বেশ আগেই দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর 'জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের' এক বোর্ড সভায় রেলওয়ের প্রস্তাবনা অনুসারে হাসপাতালটির নাম 'বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব স্বাস্থ্য কমপ্লেপ' রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়।

রেলের জায়গায় হাসপাতাল নির্মাণ করতে যাচ্ছে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ। চুক্তি অনুযায়ী, রেলের জায়গায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল এবং ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

নাগরিক সমাজের সচিব ইব্রাহিম হোসেন বাবুল জানান, আইনগতভাবেও সিআরবিতে কোনো হাসপাতাল নির্মাণের সুযোগ নেই। কারণ, সরকার সিআরবিকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এটি সংরক্ষণে আটটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, এখানে কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা ও বহুতল ভবন হতে পারবে না।

চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজ, সিআরবি রক্ষা আন্দোলন, সিআরবি রক্ষা মঞ্চ, নাগরিক উদ্যোগসহ বিভিন্ন ব্যানারে বিভিন্ন স্তরের মানুষ সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ও আঙ্গিকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ছয় মাস ধরে এসব কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।