ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদের দেখতে বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) রয়েছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। 

শুক্রবার বেলা ১টার দিকে নৌ প্রতিমন্ত্রী এই হাসপাতালে আসেন। তখন তার সঙ্গে ছিলেন শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস।

দুর্ঘটনায় আহত ৭৫ জন এই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে জানান শেবাচিম পরিচালক। তাদের মধ্যে ৬ জনকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এসময় বলেন, ‘আহতদের সুচিকিৎসার সব ধরনের বন্দোবস্ত করবে সরকার। কেন এমন ঘটনা ঘটেছে সেটা তদন্তে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ ঘটনায় এখনও যারা নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের অনুসন্ধান চলবে।’ 

পরে তিনি ঝালকাঠিতে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী ওই লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে উদ্ধার তৎপরতা শেষ করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিআইডি কর্মকর্তারা। এখন প্রমত্তা সুগন্ধা নদীতে অভিযানে নেমেছেন ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরিরা।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বে থাকা বরিশাল ফায়ার নার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, ‘শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আমরা লঞ্চের ভেতরের উদ্ধার তৎপরতা শেষ করেছি। ভেতর থেকে বহু হতভাগ্য যাত্রীর দেহাবশেষ খুঁজে পেয়েছি। ক’জনের মাথার খুলি আমরা উদ্ধার করেছি। মরদেহ ও দেহাবশেষ আমরা থানায় নিয়ে যাচ্ছি। এই পর্যন্ত ৩৬ জনের মরদেহ আমরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। নিহতদের মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হবে।’ 

ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের দুজন সদস্য জানান, সুগন্ধা নদী থেকে তারা ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন, যারা গত রাতে প্রাণে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। 

বরগুনার জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে যাদের বাড়ি বরগুনা জেলায় তাদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতদের সুচিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।

লঞ্চটির ইঞ্জিনরুমের কাছে রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।