ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে আগুনে হতাহতের ঘটনায় নদী তীর ও হাসপাতালে ছুটোছুটি করছেন স্বজনরা। এ সময় প্রিয়জনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে সেখানকার পরিবেশ। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে ঝালকাঠি সদরের দিয়াকুল গ্রামের কাছে সুগন্ধা নদীতে লঞ্চটিতে আগুন লেগে যায়। লঞ্চটি প্রায় আট শ’ যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে বরগুনা যাওয়ার পথে ঝালকাঠিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

এ লঞ্চে ঢাকা থেকে পাথরঘাটার ফুলঝুড়ি যাবার উদ্দেশে ৯ বছরের নাতী ফাহিমকে নিয়ে উঠেছিল নানী জরিনা বেগম। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস লঞ্চে আগুন লাগায় নাতিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন জরিনা বেগম। এই ঘটনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ লঞ্চে আগুন লাগায় দিশেহারা হয়ে যাই। এক সময় আগুনের তাপ সহ্য করতে না পেরে নাতিকে কাঁধের ওপর নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিই। কিছু দূর সাঁতরে যাবার পরে আমি ডুবে যাচ্ছিলাম। তখন আমি নাতিকে হাত থেকে ছেড়ে দিয়ে পাড়ে উঠে আসি। নাতিকে পাব কিনা জানি না। তবে তার লাশটা পেলেও শান্তি পেতাম। কারণ ওর বাবা মায়ের কাছে কীভাবে তাদের সন্তান আমি ফিরিয়ে দেব।

এ লঞ্চ দুর্ঘটনায় হারিয়ে গেছে বরগুনার ৯ম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণ হালদার। তার চাচা সমির হালদার এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বরগুনা থেকে ঝালকাঠি ছুটে আসেন। সঙ্গে ছিলেন হারিয়ে যাওয়া কিশোর কৃষ্ণ হালদারের বাবা সঞ্জিব হালদার। লঞ্চ দুর্ঘটনার পর নদীর তীরে বসে তাকিয়ে ছিলেন লাশ উঠানো ট্রলারে দিকে। 

এ সময় অশ্রুশিক্ত চোখে কৃষ্ণর চাচা সমির হালদার জানান, ঢাকা থেকে বরগুনার বামনায় যাওয়ার জন্য এই লঞ্চে উঠেছিল কৃষ্ণ, তার ভাই ও মা। মা ও ভাইকে পাওয়া গেলেও কৃষ্ণের সন্ধান মেলেনি। সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা সঞ্জিব হালদার কোনো কথাই বলতে পারেননি। শুধু এতটুকুই বলেছে আমি আর কৃষ্ণকে পাব কিনা জানি না। তবে ওর শেষ ইচ্ছা ছিল বাড়িতে এসে আমার সঙ্গে ঘুরতে যাবে। ওকে নিয়ে হয়তো আর ঘোরা হবে না।

যাত্রীদের অভিযোগ, সাপ্তাহিক দু’দিন বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো হয়েছিল লঞ্চে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লঞ্চটি থেকে ৩৬ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় দগ্ধ প্রায় ৭৫ জনকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে আরও ১৫ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। 

ভিডিও দেখুন: