বরিশাল জেলার তালতলী উপজেলার ছোটবগী গ্রামের বাবুল (৫০) বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খুঁজতে এসেছেন তার মা রেখা বেগম (৭০) ও দুই বছরের নাতি জুনায়েদকে। বার বার আহতদের শয্যার কাছে যাচ্ছেন আর কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। খুঁজে পাচ্ছেন না মা ও নাতিকে। 

শুক্রবার বেলা ১টার দিকে বাবুল বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বসে সমকালকে জানান, তার ভাইঝি সোনিয়া (২৫), সোনিয়ার দুই ছেলে জুবায়ের ও জুনায়েদ এবং তার মা রেখা বেগম দুর্ঘটনা কবলিত অভিযান-১০ লঞ্চে করে বরগুনা যাচ্ছিলেন। আগুন লাগার পরপর সোনিয়া তার ৬ বছরের শিশু জুবায়েরকে নিয়ে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও তার দুই বছরের ছেলে জুনায়েদ ও রেখা বেগমকে এখনও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। 

বাবুল বলেন, ‘মোর মা আর নাতিডারে পাই না। ওগো কোমমে তা মুই জানি না। ও আল্লা মোর মায়েরে আর নাতিডারে ফিরিয়ে দাও।‘ 


বরগুনার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া গ্রামের উত্তম হালদার (৩৫) বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খুঁজতে এসেছেন ভাইয়ের ছেলে কৃষ্ণ হালদারকে (১৪)। নিখোঁজ কৃষ্ণ ঢাকার একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। কৃষ্ণ হালদার মা গীতা রাণী ও ছোটভাই প্রত্যয়কে নিয়ে বামনার গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিল। 

উত্তম হালদার বলেন, দুর্ঘটনার পর গীতা রাণী প্রত্যয়কে নিয়ে নদীতে ঝাপ দেন। তারা তীরে উঠতে সক্ষম হলেও কৃষ্ণ নিখোঁজ।


পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলী গ্রামের বাসিন্দা মো. রণি (১৫) খুঁজছিলেন মা রীনা বেগম ও বোন লিমাকে। বার বার আহতদের শয্যার কাছে গিয়ে মা আর বোনকে না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রণি। রণি নিজেও আহত হয়েছে। 

এভাবেই নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের শয্যার কাছে ছুটে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা।