ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌ-রুটে ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। দুর্ঘটনা এড়াতে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে সাড়ে ১৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। আর শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে বন্ধ ছিল সাড়ে চার ঘণ্টা। পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় গতকাল নদী পারাপারের অপেক্ষায় ছিল প্রায় এক হাজার ২০০ ট্রাক। পাটুরিয়া-ঢাকা মহাসড়কের উথলী পর্যন্ত আট কিলোমিটার ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উথলীর মোড় পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রাস্তায় ছিল ট্রাকের দীর্ঘ সারি। শুক্রবার শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় ছিল পাঁচ শতাধিক যানবাহন।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে এমনিতেই ফেরি স্বল্পতা ও নদীতে নাব্য সংকট রয়েছে। এতে আগে থেকেই ব্যাহত হচ্ছিল স্বাভাবিক ফেরি চলাচল। এর সঙ্গে কুয়াশা যুক্ত হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে যাত্রী ও চালকদের। পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যানজট দেখা দেওয়ায় বিআইডব্লিউটিসির কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস ও কোচ পারাপার করায় পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের চার-পাঁচ দিন করে ঘাটেই পড়ে থাকতে হচ্ছে।

ঢাকার মিরপুর থেকে ছেড়ে আসা বরিশালগামী ট্রাকচালক জবান শেখ জানান, তিনি মঙ্গলবার দুপুরে পাটুরিয়া ঘাটে আসেন। শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকেও ট্রাক নিয়ে ফেরিতে উঠতে পারেননি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রুবেলুজ্জামান জানান, এ রুটে চলাচলরত ১৮টি ফেরির মধ্যে দুটি বিকল থাকায় ১৬টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারপার করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, ঘন কুয়াশায় গত দুই দিনে সাড়ে ১৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ, ফেরি স্বল্পতা, নদীতে নাব্য সংকট ও যানবাহনের চাপ বাড়ায় ঘাট এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

শিমুলিয়া ঘাটেও যানজট: কুয়াশার তীব্রতা বেড়ে গেলে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ। কুয়াশা কমলে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফের ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়। ফেরি বন্ধ থাকায় যানজটে পড়ে ভোগান্তি পোহান দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শাফায়াত জানান, চারটি মিডিয়াম ফেরি দিয়ে ঘাট সচল রাখা হয়েছে। ঘাট এলাকায় পাঁচ শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে শিমুলিয়া ঘাটে সাধারণ যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনকে গুরুত্ব না দিয়ে ভিআইপিদের যানবাহন পারাপারের প্রতিবাদে গতকাল বিক্ষোভ করেন যাত্রী ও চালকরা। সকাল ১১টার দিকে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর গাড়িও আটকে দেন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিমন্ত্রী ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে আগুনে পুড়ে যাওয়া লঞ্চ দুর্ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা শ্রীনগর-লৌহজং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানের গাড়িও ঘেরাও করেন। এরপর সিরিয়াল অনুযায়ী ভিআইপি ও সাধারণ যাত্রীদের যানবাহন নিয়ম মেনে পারাপার করা হয়।

শিমুলিয়া ঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক মো. জাকির হোসেন জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থাকায় ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে।