ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন জাতীয় ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে একশ' বিশিষ্ট ব্যক্তিকে স্বীকৃতি দেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষে সাবেক শিক্ষার্থীদের মিলন মেলার অনুষ্ঠানে এই স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরের কনফারেন্স রুমে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই তথ্য দিয়েছেন। আগামী ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের 'শতবর্ষের মিলনমেলা' সফল করার লক্ষ্যে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রচার ও যোগাযোগ উপ-কমিটি এই সভার আয়োজন করে।

সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিকে ডিজিটালে রূপ দিতে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন কাজ করবে বলে ঘোষণা দেন এ. কে. আজাদ। তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের এখন দুরাবস্থা চলছে। এই মেডিকেল সেন্টারটিকেও আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা রয়েছে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের। তিনি আরও বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে যে বাজেট দেওয়া হয় তার ৯০ শতাংশ বেতনেই ব্যয় হয়। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকের অনেক বিভাগ এখন আর রাখা দরকার আছে কি না সেটাও ভাবা যেতে পারে।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বৃত্তি দেওয়ার জন্যে শিক্ষার্থীদের নেওয়া সাক্ষাতকারের কিছু মর্মস্পর্শী ঘটনা তুলে ধরেছেন এ. কে. আজাদ। তিনি বলেছেন, দরিদ্র শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্টে পড়াশোনা করেন। একটু সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে তারা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন। একদিন তারাই প্রতিষ্ঠিত হয়ে অন্য দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেবেন। এই বিষয়টি ভাবনায় রেখেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন মেলাকে সামনে রেখে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ২৫ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করা হবে। এই ফান্ড থেকে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদের সভাপতিত্বে সভায় অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার, সহ-সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ, শাইখ সিরাজ, মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার, যুগ্ম-মহাসচিব সুভাষ সিংহ রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু, প্রচার ও যোগাযোগ উপ কমিটির সদস্য সচিব কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ বক্তৃতা করেছেন। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মধ্যে বক্তৃতা করেছেন আজকের পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সহ-সভাপতি রেজোয়ানুল হক রাজা, আমাদের সময় ডটকমের সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান, ডিবিসির প্রধান নির্বাহী ও প্রধান সম্পাদক মন্‌জুরুল ইসলাম, জিটিভির প্রধান সম্পাদক সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, চ্যানেল ২৪ এর নির্বাহী পরিচালক তালাত মামুন, নিউজ ২৪ এর নির্বাহী সম্পাদক রাহুল রাহা, জুলফিকার আলি মাণিক, শাহেদ চৌধুরী প্রমুখ।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের মিলন মেলা সফল করার জন্য ব্যাপক প্রচারের বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। এ জন্য কয়েকটি প্রস্তাবনাও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবনের মধুর স্মৃতির এক মিনিট ভিডিও অথবা অডিও ক্লিপ পাঠানোর জন্য আলামনাইদের কাছে আহ্বান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বিশেষ কোনো ছবি অ্যালামনাইয়ের ফেসবুকে পোষ্ট দেওয়ার জন্য আহ্বান, ছবির কপিরাইট সংশ্নিষ্ট অ্যালামনাইয়ের নামে সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রচার ও আর্কাইভে সংরক্ষণ, আগামী ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি বিভিন্ন টেলিভিশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ এবং মিলন মেলাকে কেন্দ্র করে টকশো আয়োজন, মিলন মেলা শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ইতিবাচক লেখা প্রকাশের জন্য গণমাধ্যম সম্পাদকদের অনুরোধ, ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন।

মতবিনিময় সভার আলোচকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে সাবেক শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিশ্বর‌্যাঙ্কিংয়ে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিংয়ে গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ জন্য গবেষণাখাতে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকেও এগিয়ে আসতে হবে।

সভায় ফান্ড গঠনের দিকে নজর দেওয়ার জন্য অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তাদের সহায়তা নিলে সহজেই কমপক্ষে একশ’ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করা যাবে। এই ফান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সহায়তা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।