কক্সবাজারে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি আশিকুল ইসলাম আশিকের (২৯) নানা অপরাধের ফিরিস্তি বের হতে শুরু করেছে।

কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক ১নং ওয়ার্ড কমিশনার বলেন, পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ডের মধ্যম বাহারছড়ার আশিকুল ইসলাম আশিক পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। 

কক্সবাজার শহরের কলাতলী কটেজ জোনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৬ নভেম্বর কারাগার থেকে বেরিয়ে আশিক আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। গত ২৪ নভেম্বর এক হোটেল মালিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সে ৬০ হাজার টাকা আদায় করে। পরদিন আরেক কটেজ মালিককে জিম্মি করে এক লাখ টাকা লুট করে আশিক ও তার সঙ্গীরা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কটেজ জোনের এক ব্যবসায়ী বলেন, আশিক যেসব কটেজে লুটপাট-ছিনতাই করে, সেসব হোটেল বা কটেজে দেহব্যবসা চলে। এ কারণে হোটেল মালিকরা আইনের আশ্রয় নেন না।

সন্ত্রাসী আশিকের বিরুদ্ধে যত মামলা: পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, কিশোর বয়সেই অপরাধ জগতে পা রাখে আশিক। ২০১১ সালের ২০ আগস্টে তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় মারামারি আইনে প্রথম মামলা হয়। এর ১০ মাস পর ২০১২ সালের ২০ জুলাই একই থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়। ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি একই ধারায় আরেকটি মামলা, একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ডাকাতির চেষ্টার দায়ে একটি, অস্ত্র আইনে একটি এবং হত্যা প্রচেষ্টার দায়ে আরেকটি মামলা হয়।

২০১৫ সালের মার্চে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়। ওই বছরের নভেম্বরে অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়। ওই মাসেই ডাকাতির মামলাও হয় তার বিরুদ্ধে। এরপর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ডাকাতি আইনে আবারও মামলা হয়। ওই বছরের অক্টোবরে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে।

গত জুনে আশিকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা হয়। নভেম্বরে হয়েছে ডাকাতি মামলা। সর্বশেষ ২৩ ডিসেম্বর গৃহবধূকে ধর্ষণে মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী :গৃহবধূকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আশিকের গ্রুপে রয়েছে ২৫-৩০ জন সন্ত্রাসী। তাদের মধ্যে অন্যতম বাহারছড়ার মোবারক, ফাহিম, বাবু, মেহেদী হাসান বাবু, ইস্রাফিল জয়াসহ আরও কয়েকজন। কক্সবাজার পৌরসভার সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নাছিমা আকতার বলেন, আশিক ও তার বন্ধুরা বাহারছড়াসহ আশপাশের এলাকার আতঙ্ক। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। তারা শহরে ইয়াবা কারবারে যুক্ত।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি মুনীর উল গীয়াস বলেন, গত ৭ নভেম্বর তাকে একটি ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যম কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ১৫ নভেম্বর সে জামিনে বের হয়ে আসে। 

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, অনেক সন্ত্রাসীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু জামিনে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কিছু করা যায় না।

এদিকে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন জানান, ধর্ষণের শিকার ওই নারীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে তাকে এখনও পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আসামিদের ব্যাপারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে।

ভিকটিম ওই নারী সমকালকে জানিয়েছেন, তিনি কক্সবাজারে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন। সন্ত্রাসীদের ভয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। এ কারণে মামলা নিয়েও তিনি আর আগ্রহী নন। 

ওই নারী বলেন, ‘আমি আর মামলা করতে চাই না। আমি বাড়ি ফিরে যেতে চাই। আমার সন্তান অসুস্থ। তাকে ডাক্তার দেখাতে হবে।’

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীরা এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় আতঙ্ক রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন হোটেল মালিক জানিয়েছেন, ধর্ষণে জড়িত সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে গেলেও তাদের গ্রুপের কয়েকজনকে হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় দেখা যাচ্ছে। তারা তাদের অনৈতিক সব বাণিজ্য এখনও চালু রেখেছে। পুলিশ এ বিষয়ে অবগত থাকলেও কোনো ভূমিকা রাখছে না।