ঝালকাঠীর সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে আর কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি। যদিও বরগুনা জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমকে এখন পর্যন্ত ২৫ জন নিখোঁজ যাত্রীর তথ্য দিয়েছেন স্বজনরা। এদিকে নৌ-মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি বরগুনায় আসছে বলেও জানা গেছে।

বরগুনা জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, স্মরণকালের ভয়াবহ এ লঞ্চ দুর্ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তদন্ত কমিটির সদস্যরা রোববার বরগুনা সফর করবেন। এ কমিটির প্রধান তোফায়েল ইসলামসহ সবাই স্থানীয় সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ২৫ জনের তালিকা করা হয়েছে।

ঝালকাঠী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, সুগন্ধা নদীতে ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। নতুন করে আর কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি।

এদিকে শনিবার বরগুনার সার্কিট হাউস মাঠে ৩০ জনের জানাজা শেষে ২৩ জনকে গণকবর দেওয়া হয়। বাকিদের শনাক্ত করে পরিবার। এর আগে ৩৭ মরদেহ পাঠানো হয় বরগুনার উদ্দেশে। এরমধ্যে বরিশাল থেকে চারজন শনাক্ত হন। বাকি ১০ জনকে বরগুনা থেকে শনাক্ত করা হয়।

জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান সদর উপজেলার পোটকাখালী সরকারি গণকবরে উপস্থিত থেকে ২১ কবরে ২৩ জনের দাফন কার্য সম্পন্ন করেন। অর্থাৎ ১৪ জনের মরদেহ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। শনাক্ত হওয়া ১৪ এবং ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মৃত্যু হওয়া একজনের মরদেহ নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এসব মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

>> ১৪ মরদেহ শনাক্ত, বাকি ২৩ জনকে গণকবর

বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে ঝালকাঠীর পোনাবালীয়া ইউনিয়নের দেউরী এলাকায় ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগে। লঞ্চটি প্রায় ৮০০ যাত্রী নিয়ে বরগুনা যাচ্ছিল। আগুন লাগার পর যাত্রীরা নেভানোর চেষ্টা করেন। অনেকে ছাদে চলে যান। কেউ কেউ নদীতে লাফ দেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া দগ্ধ আছেন শতাধিক।