ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম)  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় গতি বেড়েছে। ধীরে ধীরে সকলের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। লঞ্চে আগুনে দগ্ধ ৪১ জন বর্তমানে এই হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর দগ্ধ সাতজনের অস্ত্রোপচার হয়েছে শনিবার। ঢাকা থেকে আসা চিকিৎসক দল তাদের অস্ত্রোপচার করেন। তিনজন গুরুতর দগ্ধ রোগীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

এদিকে শেবাচিম হাসপাতালের ২০ শয্যার বার্ন ইউনিট প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর আজ রোববার খুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে শয্যাগুলো ঠিকঠাক করা হয়েছে। নিয়োগ করা হয়েছে চিকিৎসক ও নার্স। তবে এখনো কোনো রোগীকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়নি। হাসপাতালের চক্ষু, শিশু ও মেডিসিন ইউনিটে দগ্ধ রোগীদের রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার মো. ইব্রাহিম (৪০) বলেন, ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা আসার পর দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় গতি বেড়েছে। তবে তাদের শরীরে পোড়া ছাড়াও অন্য রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগীদের স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন হাসপাতালে ভিড় করায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে রোগীদের অবস্থার ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে আসা ৭ সদস্যের চিকিৎসক দলের প্রধান ডা. নুরুল আলম বলেন, ‘আমরা রোগীদের পর্যবেক্ষণ করে সে অনুযায়ী চিকিৎসা দিচ্ছি। প্রয়োজন হলে জরুরি অপারেশন করছি। এ জন্য অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত রাখা আছে।’

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, দগ্ধ ৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ৪১ জন দগ্ধ রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতালের বার্ন ইউনিট বন্ধ থাকায় গুরুতর দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ কারণে ঢাকা থেকে চিকিৎসকদের এখানে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে রোববার সকালে দগ্ধ রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন ফায়ার সার্ভিসের গঠিত তদন্ত দলের সদস্যরা। পাঁচ সদস্যের কমিটির প্রধান  বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. কামাল উদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা দগ্ধ রোগীদের সঙ্গে কথা বলে ওইদিনের ঘটনার বর্ণনা শুনেছি। পরবর্তী সময় এসব সমন্বয় করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।