বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুই ইউপি সদস্য প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ও আব্দুল মান্নানের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দাফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার রাতে কাফুরা পূর্বপাড়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় রোববার দুপুরে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে দুই পক্ষ।

জানা যায়, ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ইউপি সদস্য প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের কর্মী-সমর্থকরা কাফুরা পূর্বপাড়াস্থ তাদের নির্বাচনী কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে মোরগ মার্কার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা করছিলেন। এ সময় নির্বাচনের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল মান্নানের কর্মী-সমর্থকরা তাদের ফুটবল প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষই মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে প্রচারণা চালাতে থাকলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। 

আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করে জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সশস্ত্র লোকজন তার নির্বাচনী কার্যালয়ে ঢুকে পাঁচ কর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে। এর মধ্যে রফিকুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর। বিষয়টি ঘটনার রাতেই পুলিশকে জানানো হয়েছে।

এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল মান্নান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। এমনকি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার জন্যও হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু কোনোভাবেই সফল না হয়ে এখন হামলার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজন আমার নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন দেয়। এতে বাধা দেওয়ায় আমার পাঁচ কর্মীকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। অভিযোগ দুটি তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।