ব্যালট পেপার-সিল ছিনতাই এবং ব্যালট বাক্স ভাংচুরের ঘটনায় কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৪টি এবং তবকপুর ইউনিয়নের ১টিসহ মোট ৫টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও  রিটার্নিং অফিসার আহসান হাবীব সমকালকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষিত কেন্দ্রগুলো হচ্ছে দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় দক্ষিণ ভবন কেন্দ্র, দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় উত্তর ভবন কেন্দ্র, কামাল খামার সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্র, গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং তবকপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। 

গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের  প্রিজাইডিং অফিসার মো. নজরুল ইসলাম জানান.  দুপুর দেড়টার দিকে ব্যালট পেপার ছিনতাই করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এরই এক পর্যায়ে লাঠি নিয়ে দু'পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই সংঘর্ষ থামাতে কেন্দ্রে কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৫ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে। এই পরিস্থিতিতে দুপুর ২টার দিকে এই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। 

এছাড়া ব্যালট পেপার ও সিল ছিনতাই এবং ব্যালট বাক্স ভাংচুর করার কারণে অন্যান্য কেন্দ্রগুলোর ভোট গ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের অর্জুনডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বহিরাগতদের সঙ্গে এক চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কথাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। দেখা দেয় উত্তেজনা। খবর পেয়ে মোবাইল টিমের পুলিশ সদস্যরা দ্রুত এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ কারণে ভোটগ্রহণ বিঘ্নিত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার মো. শাহিন মিয়া।

অন্যদিকে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতিগ্রাম বিএল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অপরাধে আকাশ (১৯), গোলাম রব্বানী (৩৫) ও রিপন কুমার (২৬) নামের তিন যুবককের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো.জাহাঙ্গীর আলম রাকিব জানান, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া চতুর্থ ধাপে জেলার ৩ উপজেলার ২১ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উলিপুর উপজেলার ১৩টি, রাজারহাট উপজেলার ৭টি ও নাগেশ্বরী উপজেলার ১টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ২১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১৪৪ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৯০১ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৩৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।