ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের গাজীপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন ডৌহাখলা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদুল হক সরকারের সমর্থকরা।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত তারা সড়কে অবস্থান নেন। এসময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধরা এসময় মানববন্ধন করেন। 

মানববন্ধনে পরাজিত প্রার্থী শহীদুল হক সরকার অভিযোগ করেন, গত ২৬ ডিসেম্বর ডৌহাখলা ইউনিয়ন নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী  এম. এ. কাইয়ুম ‘মোটা অঙ্কের’ টাকার বিনিময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার হাসান মারুফকে  ‘প্রভাবিত’ করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম একটা ফেয়ার ইলেকশন হোক। কিন্তু কাইয়ুম ৩০ লাখ টাকা দিয়েছে ইউএনওকে। ডৌহাখলা ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্র দখল করে তারা ভোট দিয়েছে। তিনটি কেন্দ্র থেকে নৌকা প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দিয়ে সিল মেরেছে সমানে। পরিকল্পিতভাবে নৌকাকে হারানো হয়েছে। আমরা ভোট বাতিল করে পুনরায় ভোট নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

পরে বেলা ১২টার কিছু পরে পুলিশ এসে শহীদুল সরকারের কর্মী-সমর্থকদের শান্ত করে সড়কের এক পাশে সরিয়ে নেন। তখন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গৌরীপুর থানার ওসি খান আবদুল হালিম সিদ্দিকী এসব তথ্য জানিয়ে সমকালকে বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানববন্ধনে বেশি লোক জড়ো হওয়ায় যান চলাচলে বাধাগ্রস্থ হয়। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাভিক করে গাড়ি চলাচল চালু করে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ বলেন, ‘বেসরকারি ফলাফলে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। ভুল বোঝাবুঝি থেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে। তাতকুড়া ও রওজ বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে দ্রুত ফলাফল এনেছিলাম। সেখানে ওরা প্যাঁচ লাগাতে চায়।’

হাসান মারুফ বলেন,তিনি নির্বাচনে শুধু নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। 

টাকা নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীকে জয়ী করানোর অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, ‘এইগুলো বাংলাদেশে সম্ভব নয়।’

এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সজল চন্দ্র সরকারকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। 

এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ কাইয়ুমকে আটক করেছে পুলিশ। 

ডৌহাখলা ইউনিয়নের কয়েক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,কাইয়ুমের সমর্থকদের ভাষ্য, নির্বাচন শেষে ভোট গণনার পর কাইয়ুম এগিয়ে ছিলেন। রাতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফলাফল প্রকাশের সময় কাইয়ুমের সমর্থকেরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। 

সেখানে নির্বাচন কর্মকর্তা সজল চন্দ্র সরকার কাইয়ুমের উদ্দেশে বলেন, ‘নৌকা আপনার চেয়ে ৫০০ ভোট বেশি পেয়েছে। আপনি আপনার লোকদের নিয়ে চলে যান।’

এ কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে কাইয়ুমের সমর্থকেরা নির্বাচন কর্মকর্তাকে মারধর করেন। এতে নির্বাচন কর্মকর্তা আহত হন। পরে পুলিশ হামলাকারীদের কাছ থেকে নির্বাচন কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে এবং কাইয়ুমকে আটক করে। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাইয়ুমকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাইয়ুমের এক সমর্থক বলেন, তাতকুড়া কেন্দ্রে কাইয়ুম আওয়ামী লীগ প্রার্থীর চেয়ে অনেক বেশি ভোট পেয়েছেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ কেন্দ্রের ভোট নিয়ে কারসাজি করে নৌকাকে বিজয়ী করার পাঁয়তারা করেন। পরে কাইয়ুমের সমর্থকেরা তাকে মারধর করেন।