পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে সংবর্ধনা দিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক)। এই অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। 

বয়কটের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে নাগরিক সংবর্ধনার জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ‘আমাকে কেউ কেউ বলেছেন, আজকের আয়োজন আরিফ করেছেন। আমি বলেছি, আরিফ সাহেব করে নাই, করেছে সিটি করপোরেশন। বরং আপনাদের লজ্জা পাওয়া উচিত  এই কারণে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে এত ভালো কাজ করছেন, একজন অন্য দলের লোক সেটি স্বীকার করছে, সেটা গ্রহণ করছে। আপনাদের তো ভালো লাগার কথা। ’

বুধবার বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয় সিসিক। 

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা ও সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়ক এবং নগরীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘বলিষ্ঠ নেতৃত্বের’ জন্য উন্নয়ন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন।

সিলেট-১ (সদর-নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ‘এই সিলেট নগরী আপনার, আমার সবার। কে কোন মতের-দলের, সেটা দেখার বিষয় নয়। আমরা সবাই সিলেটের, এটাই মূল বিষয়। এখানের ছেলে আমি, সবার হৃদয়ে সিলেট।’

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে কেউ কেউ বলেন যে, মেয়র অন্য দলের। সুতরাং আপনি উনার অনেক প্রস্তাব গ্রহণ করবেন না। আমি বলি, সিলেট তো আমারও; মেয়র সাহেবেরও। তাই বৃহত্তর সিলেটের মঙ্গলের জন্য সব করতে হবে।’ 

সংবর্ধনার শুরুতে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে কাউন্সিলররা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। এরপর মেয়র সিলেট নগরীর সোনার চাবি, ক্রেস্ট ও মানপত্র সংবর্ধিত অতিথির হাতে তুলে দেন। 

গত ৫ সেপ্টেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিসিক মেয়র আরিফ আওয়ামী লীগ সম্পর্কে কটুক্তি করে তাদের ‘গন্ডারের’ সঙ্গে তুলনা করেন। 

এরপর সিলেট আওয়ামী লীগে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ বিবৃতি দিয়ে মেয়র আরিফের কটুক্তির প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিল। 

আওয়ামী লীগ সরকারের বরাদ্দে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করে মেয়র আরিফ নিজের নাম প্রচার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

সম্প্রতি নগরীতে অযৌক্তিকভাবে পানির বিল বৃদ্ধির ফলে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করায় মেয়র আরিফের সমালোচনায় মুখর হয় আওয়ামী লীগ। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ‘মেয়র আরিফের উদ্যোগে’ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া সংবর্ধনা বয়কট করে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন জানান, সিলেট নগরীর উন্নয়নে ১২২৮ কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট উন্নত হচ্ছে। এয়ারপোর্ট আধুনিক হচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে।’ 

সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বয়কটের মধ্যে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সিলেট চেম্বারের সভাপতি তাহমিন আহমদ, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আল আজাদ, অনলাইন প্রেসক্লাব সভাপতি মুহিত চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হক। 

এদিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেও বেলা আড়াই টায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনকে স্বাগত জানান মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, মহানগর যুবলীগ সভাপতি আলম খান মুক্তি, সাধারণ সম্পাদক মুশফিক জায়গীরদার, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি কিশোয়ার জাহান সৌরভ প্রমুখ। বুধবার রাতে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে আবার ঢাকায় ফিরে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন।