বিগত কয়েক বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ৫৭৮ জন পরীক্ষার্থী। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের সম্মেলনকক্ষে প্রেস বিফ্রিংয়ে এসব তথ্য জানান শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান। 

প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে জানা যায়, এবারে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৮টি জেলার মোট এক লাখ ৯৬ হাজার ২২৩ জন শিক্ষার্থী ২৭৫টি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে এক ৮৩ হাজার ৩৬২ জন শিক্ষার্থী পাশ করেছে। পাশের হার ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। 

এর মধ্যে ছাত্রের পাশের হার ৯৪ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং ছাত্রীর পাশের হর ৯৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এবারের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১৭ হাজার ৫৭৮ জনের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৮ হাজার ৯০৬ জন। 

এবারে এই বোর্ডের অধীনে শতভাগ পাশ করেছে ৪৯৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। তবে এবারের পরীক্ষায় ২ হাজার ৮১১ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। 

পরিসংখ্যান বলছে, এবারে এই শিক্ষাবোর্ডের পাশের হার বিগত বছরগুলোর সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। গত ২০২০ সালে পাশের হার ছিল ৮২ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ২০১৯ সালে পাশের হার ছিল ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ, ২০১৮ সালে পাশের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬২ শতাংশ, ২০১৭ সালে পাশের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ২০১৬ সালে পাশের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে পাশের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। 

শুধু তাই নয়, জিপিএ-৫ সংখ্যাতেও এবারে বিগত বছরগুলোর তুলনায় সর্বোচ্চ। ২০২০ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১২ হাজার ৮৬ জন, ২০১৯ সালে ৯ হাজার ২৩ জন, ২০১৮ সালে ১০ হাজার ৭৫৫ জন, ২০১৭ সালে ৬ হাজার ৯২৯ জন, ২০১৬ সালে ৮ হাজার ৮৯৯ জন এবং ২০১৫ সালে ১০ হাজার ৮৪২ জন। 

তবে এবারে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় বেশি। গত ২০২০ সালে এই বোর্ডে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল এক হাজার ১৫৮ জন, ২০১৯ সালে এক হাজার ২৫৯ জন, ২০১৮ সালে ৯৯৪ জন, ২০১৭ সালে ৭১৮ জন, ২০১৬ সালে ৭২৯ জন এবং ২০১৫ সালে ৬৫০ জন। 

দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান বলেন, এবারে পাশের হার বেশি হওয়ার কারণ বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে পরীক্ষার নম্বর যোগ হয়েছে জেএসসি পরীক্ষার ফলাফল অনুসারে। বিভাগ অনুযায়ী মোট ৩টি করে বিষয়ের পরীক্ষা হয়েছে। সাধারণত শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিত বিষয়েই বেশি ফেল করে। যেহেতু এবারে ওই বিষয়ে পরীক্ষা হয়নি তাই এবারে পাশের হার বেশি। 

তিনি বলেন, এবারে অনুপস্থিতির সংখ্যাও বেশি। হতে পারে করোনাকালীন সময়ে অসুস্থতা কিংবা বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে। কেন এবারে পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতির সংখ্যা কম সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।