ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। উপজেলায় বিদ্যালয়ভিত্তিক টিকাদানের প্রথম দিনে আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে অফিসার্স ক্লাবে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। টিকাদান কার্যত্রম সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হালিমা খাতুনের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যন রাফি উদ্দিন টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অভিজিৎ রায়, নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ সরকার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম ভূইয়া ও নাসিরনগর আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম প্রমুখ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদেরকে ফাইজারের প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দফায় নাসিরনগরের ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছয় হাজার ৪১৮ জন শিক্ষার্থীকে ফাইজারের প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হবে।

অষ্টম শ্রেণির ইকবাল মিয়া ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজমা বেগম নামে দুই শিক্ষার্থী বলেন, ‘টিকা দেওয়ার আগে ভয় লাগছিল। কিন্তু টিকা নেওয়ার পর সে ভয় কেটে গেছে। টিকা নিতে আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি।’

আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, 'আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীদেরকে টিকার ব্যবস্থা করায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। এর ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা সুরক্ষিত থাকবে।'

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, প্রথম ধাপে উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের ১২টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই টিকা পাবেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অভিজিৎ রায় বলেন, ছয়টি বুথে একসঙ্গে ২৪ জনকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরকে টিকা দেওয়া হবে।