চট্টগ্রামে মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাচারকারী চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের পতেঙ্গায় র‌্যাব-৭ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানানো হয়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বাসুদিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী ডালিম, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার আখড়াবাজার গ্রামের আতিকুর রহমান রনি ও মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার সম্বুক গ্রামের আলম হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডালিম, রনি ও আলম মানব দেহের কিডনিসহ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাচার চক্রের এ দেশীয় সদস্য। তাদের সঙ্গে ভারতের একটি চক্রের যোগাযোগ রয়েছে। ডালিম এ চক্রের মূল হোতা। ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে দাতা সংগ্রহ করেন তারা। ভারত থেকে গ্রহীতা রোগীর নমুনা পাঠানো হয়। সেটি বাংলাদেশে দাতার নমুনার সঙ্গে মিলে গেলে তাকে ভারতে নিয়ে যায় তারা। সেখানে দাতার শরীর থেকে কেটে নিয়ে গ্রহীতার শরীরে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেওয়ার বিপরীতে চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা পান দাতা। পাচারকারী চক্রের সদস্যরা বিনিময়ে গ্রহীতা রোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেন ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা।

র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএ ইউসুফ বলেন, সাইফুল নামে এক ব্যক্তিকে চার লাখ টাকায় কিডনি বিক্রি করতে উদ্বুদ্ধ করেন আসামিরা। তাকে ভারতে নিয়ে যেতে তারা বৃহস্পতিবার খুলশীর ভারতীয় ভিসা সেন্টারে নিয়ে যায়। ওই দিন সন্ধ্যায় সেখান থেকে কাগজপত্রসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী অঙ্গহানি ও বিকলাঙ্গ করা গুরুতর অপরাধ। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ করে আসছিল। কিডনি দেওয়ার পর অনেক দাতা অসুস্থ হয়ে পড়লেও পাচারকারীরা তাদের কোনো সহযোগিতা করতেন না। এ ধরনের ঘটনায় অনেকের মৃত্যুও হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় মামলা করা হয়েছে।