ঢাকা রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪

কিশোরকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে পায়ের রগ কর্তন

কিশোরকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে পায়ের রগ কর্তন

আহত আরিয়ান

নড়াইল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২০:২৩

নড়াইলে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে পায়ের রগ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় কাড়ার বিলের একটি মাছের ঘেরে এ ঘটনা ঘটে।

আহত আরিয়ান শহরের মহিষখোলা এলাকার মোহাম্মদ মোল্যার ছেলে। সে নড়াইল পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। প্রেমঘটিত দ্বন্দ্ব থেকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

আহত আরিয়ান জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে সে বাসায় ঘুমিয়ে ছিল। ওই সময় স্থানীয় আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম পলাশ বাড়িতে গিয়ে তার বাবার সঙ্গে কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর শহরের দক্ষিণ নড়াইল এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তুষার শেখ ও রয়েল মোল্যা তাকে জোর করে একটি প্রাইভেটকারে ওঠায়। পরে কাড়ার বিলের মাছের ঘেরে নিয়ে তুষার, রয়েল ও এলান নামের তিনজন তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে রাস্তার ওপর ফেলে যায়। আহত অবস্থায় ভ্যানে করে সে একাই সদর হাসপাতালে যায়।

প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে সে দাবি করে, ওই মেয়েই তাকে পছন্দ করে। দেড় মাস ধরে প্রতিদিন বাসার সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও আরিয়ান সাড়া দেয়নি। বিষয়টি স্থানীয়রা জানেন।

তবে স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, শহরের আলাদাতপুর এলাকার ওই কিশোরীর সঙ্গে আরিয়ানের সম্প্রতি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে আর্থিক অবস্থা ও সামাজিক মর্যাদা বেশি হওয়ায় কিশোরীর পরিবার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকেই এ ঘটনা হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে কয়েকবার আরিয়ানের বাড়িতে গেলেও তার বাবাকে পাওয়া যায়নি। আরিয়ানের মা নেই। অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এস এম পলাশের দাবি, আরিয়ানের বাবাই তাঁকে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলেছিলেন। সেই কথা বলতেই তাদের বাসায় যান। চলে আসার পরে কী ঘটেছে, তা জানেন না।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত তুষার ও রয়েলের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

নড়াইল সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল গাফফার বলেন, ছেলেটির ডান পায়ের রগ কাটা হয়েছে। এ জন্য অর্থোপেডিক সার্জারি প্রয়োজন। তাই যশোরের হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

সদর থানার ওসি ওবাইদুর রহমান বলেন, প্রেমঘটিত কারণেই ছেলেটিকে মারা হয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা করছে। ভুক্তভোগীর পরিবার এখনও অভিযোগ দেয়নি। 
 

আরও পড়ুন

×