ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

দিনমজুর হত্যার ১৭ দিন পর ঘাতক গ্রেপ্তার

নারীকে ফাঁসাতে কাজের খোঁজে আসা ব্যক্তিকে খুন: পুলিশ

নারীকে ফাঁসাতে কাজের খোঁজে আসা ব্যক্তিকে খুন: পুলিশ

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন পুলিশ সুপার আজিম-উল-আহসান

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২১:০৯

ঝিনাইদহ সদরের রামনগর গ্রামের কলাক্ষেতে গত ১৮ নভেম্বর পাওয়া যায় দিনমজুর আসলাম হোসেনের (৪৩) মরদেহ। এর ১৮ দিন পর পুলিশ জানিয়েছে, এক নারীকে ফাঁসাতে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করে সোহেল রানা (৪৩) নামে এক ব্যক্তি।

মঙ্গলবার রাতে তাকে মানিকগঞ্জ সদরের চান্দিরচর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে দায় স্বীকার করেছে।

বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আজিম-উল-আহসান। নিহত আসলামের বাড়ি পাবনা জেলার চাটমোহর থানাধীন বহরপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত ফরিদুল ইসলামের ছেলে। কাজের সন্ধানে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মুরগিহাট এলাকায় যান তিনি।

সোহেল রানা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ১৭ নভেম্বর সেখানে তার সঙ্গে আসলামের পরিচয় হয়। কাজ দেওয়ার কথা বলে তাকে জেলা সদরের রামনগর গ্রামের কলাক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানেই শাবল দিয়ে আঘাত করে আসলামকে হত্যা করে। পরে নাজমা বেগম নামে এক নারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ওই ব্যক্তির প্যান্টের পকেটে রেখে দেয় সোহেল।

এ ঘটনায় ১৮ নভেম্বর লাশ উদ্ধারের পর আসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে সদর থানায় মামলা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের কপির সূত্র ধরে নাজমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। নাজমার বাড়ি জেলার শৈলকুপা উপজেলার দুধসর গ্রামে।

নাজমা পুলিশকে জানান, সোহেল একই এলাকায় বসবাস করত। এরই সূত্রে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছুদিন আগে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। সম্প্রতি নাজমা শৈলকুপা থানায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে রান্নাঘর পুড়িয়ে দেওয়া ও মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ দেন। অভিযোগ তুলে নিতে পালিয়ে থেকে হুমকি দিচ্ছিল সোহেল।

পুলিশ জানায়, সোহেলের কোনো ছবি না থাকায় নাজমার বর্ণনা অনুসারে তার মুখাবয়বের স্কেচ তৈরি করে বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়। পরে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে মঙ্গলবার রাতে র‍্যাবের সহায়তায় মানিকগঞ্জ থেকে তাকে আটক করা হয়। বুধবার সকালেই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন

×