ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগেই জোটের আসন ইস্যু রফা হবে: আব্দুর রহমান

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগেই জোটের আসন ইস্যু রফা হবে: আব্দুর রহমান

ছবি: সমকাল

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২১:১১ | আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২১:১৫

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনের আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের সকল প্রার্থীদের নিয়ে অবহিতকরণ সভা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদারের সভাপতিত্বে এ সভা হয়।

এতে নির্বাচনী আচরণবিধি সব প্রার্থীদের মেনে চলে নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও অবাধ করতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে বলা হয়। এসময় সব প্রার্থী আইনকে সম্মান প্রদর্শন করে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন।

অবহিতকরণ সভা শেষে ফরিদপুর-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে আমাদের অবহিত ও তা মানতে বলা হয়েছে। আমরা সব প্রার্থীই তা মেনে চলতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
 
জোটের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আসন ভাগাভাগি হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখনও তাদের সঙ্গে কোনো ফায়সালা হয়নি। যারা আদর্শগতভাবে আমাদের জোটে আছে তারা সব সময় সরকারের সংগ্রামে, আন্দোলনে পাশে আছে এবং থাকবে। ভাগাভাগি নিয়ে নিশ্চই তাদের সঙ্গে তপশিলে বর্ণিত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগেই দফারফা হবে।

নৌকার বিপরীতে সারাদেশেই আওয়ামী লীগ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর জয়লাভ করা নিয়ে কতটা আশাবাদী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নৌকার বিজয়ে শতভাগ আশাবাদী। আওয়ামী লীগের পদে আছে এমন অনেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তারা প্রার্থী না হলে দলের জন্য ভাল হতো।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি- সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্যই দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়া হয়েছে কি? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ করতে হবে বলে দলের ভেতর থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করাতে দলের ভেতর থেকেই উস্কানি দেওয়া এটা আমাদের দলের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিশীল জায়গায় একটি সাংঘর্ষিক বিষয়। আমরা এটাকে প্রশ্রয় দেব না। আওয়ামী লীগের সবাই নৌকার পক্ষেই কাজ করব।

ওবায়দুল কাদের বলেছেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করানো রাজনৈতিক কৌশল। এ কথার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের পরে এটার ভিন্ন ব্যাখ্যা করেছেন। তাকে নিয়ে কথা বলাও আমার জন্য বিব্রতকর। কাদের সাহেব যা বলেছেন তার ব্যাখ্যা তিনি ভাল বলতে পারবেন। তবে আমি বলব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাদেরকে নৌকা দিয়েছেন তাদেরকে জেতানোর জন্যই আমার জায়গা থেকে সহযোগীতা ও চেষ্টা থাকবে। আমার দলের কোনো প্রার্থী নির্বাচনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এমন কোনো কাজ নিশ্চই দল থেকে করব না।

ফেসবুকে অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, ফেসবুকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে আবার অনেকের সঙ্গে অনেকের বিয়েও দিচ্ছে এসব অনেকে গুজব ফেসবুকে আছে। এসব এখন আমলে বা কানে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে আজ থেকে সব প্রার্থীকে যার যার জায়গা থেকে ফেসবুকে কোনো ধরনের অপপ্রচার, গুজব বা মানহানিকর কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড করলে দলগতভাবেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এফবিসিসিআই'র সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এ. কে. আজাদ নির্বাচন করছেন। সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আমাদের বেশ কিছু কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি অনেককে শারীরিক ভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা থানায় এ বিষয়ে জিডিও করেছি, পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে তদন্ত করছে। ভবিষ্যতে যাতে এমনটা না হয় এজন্য আমি প্রশাসনকে বলেছি, তারা দেখছেন বিষয়টি। তবে পুলিশ প্রশাসন একটা দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে ছিল যে, এই অভিযোগগুলো কি নির্বাচন কমিশন থেকে আসতে হবে, না কি পুলিশ অভিযোগ পেলে সরাসরি পদক্ষেপ নেবে। আজ নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি ক্লিয়ার করেছে যে, ফৌজদারি কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সে বিষয়ে তারা সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আজকের পরে আমার বিশ্বাস এরকম কোনো অভিযোগ আসলে পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

এ কে আজাদ বলেন, আমি ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদে আছি এবং দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। অনেকেই চেয়েছিলেন। দল সবাইকে মনোনয়ন দিতে পারেনি। তবে দল থেকে বলা হয়েছে, এদের মধ্যে কেউ যদি স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এদিকে গতকালও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলেছেন যে, যদি কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে দলীয় কোনো নেতাকর্মীরা কাজ করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। সরকার চাচ্ছে মূলত একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক। 

প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান এমন কথার প্রেক্ষাপটে বলেন, আমার উপস্থিতিতে আজাদের এমন কথায় দল আমাকে ভুল বুঝবে। আমার কথা হলো আজাদ আমার ছোট ভাই তার ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখে সর্বদা আমি পাশে আছি, থাকব। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট সংক্রান্ত বিষয়ে এবং দলীয় ব্যাপারে আমি কোনো প্রকার সহায়তা করতে পারব না। 

এ সময় আব্দুর রহমান- এ কে আজাদকে অনুরোধ করে বলেন, আজাদ তুমি ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসো। তোমাকে অধিকতর মর্যাদা দিয়ে দলের মধ্যে রাখব।
 
ফরিদপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শামীম হকের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ এগুলো থাকবেই। সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ থাকলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। 

এর আগে অবহিতকরণ সভায় সভার সভাপতি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার সব প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চলে নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও অবাধ করতে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন এবং প্রার্থীরা একে অন্যের প্রতি সৌহার্দ্য পূর্ণ সম্পর্ক বজার রাখতে অনুরোধ করেন।

সভায় এসময় পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, ফরিদপুর-১ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান, জাতীয় পার্টির আকতারুজ্জামান খান, ফরিদপুর-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী, জাকের পার্টির ফজলুল হক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন মিয়া, ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক, স্বতন্ত্র প্রার্থী এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এ. কে. আজাদ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলের জেলা সভাপতি এসএম ইয়াহিয়া, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এমএ মুঈদ হোসেন আরিফ, পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান এবং অন্যান্য প্রার্থীরা ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×