ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ারকে শোকজ

প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ারকে শোকজ

শাহরিয়ার আলম

সমকাল ডেস্ক 

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:৪৮

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জনসভা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

এতে আগামী ১০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে সশরীরে হাজির হয়ে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী-৬ আসনে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র সহকারী জজ মো. সেফাতুল্লাহর সই করা ওই নোটিশে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কমিটি জানতে পেরেছে, শাহরিয়ার আলম নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতীক বরাদ্দের আগেই ২ ডিসেম্বর রাতে চারঘাটের ফরহাদ আলাউদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জনসভা করেন। সেখানে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি
রাহেনুল হকের কর্মী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও পাকুরিয়া ইউপির চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলামকে ‘কুলাঙ্গার’ অপবাদসহ বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। এ ছাড়া ১৭ ডিসেম্বরের পর তাঁকে দেখে নেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকিও দেন। এর মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। 

এ বিষয়ে জানতে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে কল করা হলে তিনি ধরেননি। তাঁর সহকারী একান্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম খুদে বার্তায় জানান, এ বিষয়ে তারাও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউপি চেয়ারম্যান মেরাজুলকে হুমকি নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এতে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ারের মানহানি করা হয়েছে, যা ভোটারদের মাঝে প্রার্থীর ইমেজ ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা। 

এ ছাড়া কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নৌকার প্রার্থী রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের অনুসারী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতাকে শোকজ করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। বৃহস্পতিবার এ নোটিশ পাওয়া লিটন সরকার কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক।

গত মঙ্গলবার দেবিদ্বার উপজেলার ভানী ইউনিয়ন যুবলীগের আলোচনা সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদকে হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেন লিটন। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 
এ বিষয়ে ১০ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কার্যালয়ে সশরীরে বা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। লিটন সমকালকে বলেন, চিঠি এখনও হাতে আসেনি। যা বলার লিখিতভাবে জবাব দেওয়া হবে। 

মনোনয়নপত্র জমার দিন শোডাউন, ৩ ডিসেম্বর একটি গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নামে মানহানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং ৬ ডিসেম্বর এলাকায় উঠান বৈঠকে নির্বাচনী প্রচার চালানোর অভিযোগে নেত্রকোনা-১ আসনের স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস আরাকে শোকজ করেছে অনুসন্ধানী কমিটি। 

এদিকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের লিখিত জবাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি ও নৌকার প্রার্থী এম এ লতিফ। গতকাল নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির সদস্য ও তৃতীয় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ বেগম আঞ্জুমান আরার আদালতে তাদের পক্ষে লিখিত জবাব দেন আইনজীবী কফিল উদ্দিন চৌধুরী।

আইনজীবী কফিল জানান, এম এ লতিফ কোনো নির্বাচনী সভা করেননি। তিনি তাঁর নিজস্ব কম্পাউন্ডে কর্মিসভা করেছেন। আর মেয়র রেজাউল করিম নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। নেতা হিসেবে তিনি ওই কর্মী বৈঠকে গিয়েছিলেন। অনুসন্ধান কমিটি এ জবাব গ্রহণ করে তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার পর সতর্ক করে যশোর-৬ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহীন চাকলাদারকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। বৃহস্পতিবার নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সহকারী জজ সুজাতা আমিনের আদালতে হাজির হন শাহীন চাকলাদার। এর আগে আচরণবিধি ভঙ্গ নিয়ে গত বুধবার তাঁর প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম শোকজের জবাব দেন। তবে সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে বিচারক শাহীন চাকলাদারকে সশরীরে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন

×