ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

কামারুল বশে না এলে বিপর্যয় হতে পারে ইনুর

কামারুল বশে না এলে বিপর্যয় হতে পারে ইনুর

লোগো

 সাজ্জাদ রানা, কুষ্টিয়া

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:৫৯

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে টানা তিনবারের এমপি জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে আবারও তাঁর নৌকা পাওয়া প্রায় নিশ্চিত। গত তিন নির্বাচনে নৌকায় চড়ে সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হলেও এবার তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন দুটি উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভা করে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য পদত্যাগকারী উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনের পক্ষ নিয়েছে। এ কারণে রাতারাতি ইনুর ভোটের হিসাবনিকাশ বদলে যেতে শুরু করেছে। কামারুল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে ইনুর ভাগ্য বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে মনে করেন এলাকার মানুষ। কামারুল বিপুল ভোটে জয়ী হতে পারেন বলে ধারণা অনেকের। 

আগের তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ইনুর পক্ষে ছিলেন। এবার কামারুলকে বাগে আনতে না পারলে ইনুর সামনে বিপদ আছে বলে মনে করছেন জাসদ নেতাকর্মীরাও। 
তবে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী জাসদ ও ইনুর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নৌকার মাঝি হিসেবে তারা ইনুকে একদমই মেনে নেবেন না। যে কোনো মূল্যে কামারুলের পক্ষে মাঠে থেকে তাঁকে জয়ী করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তারা। 

দুটি উপজেলার আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, এ আসনে একজোট হয়ে নির্বাচন করার মতো কোনো পরিবেশ রাখেনি জাসদ। আওয়ামী লীগের চার নেতাকে তারা হত্যা করেছে। গত নির্বাচনের আগে দেওয়া ওয়াদার একটিও তারা রক্ষা করেনি। তাই এবার ইনুর বিপক্ষে তাদের কঠোর অবস্থান।
কামারুলকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ওই নেতারা বলেন, তিনি তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন রাজনৈতিক কর্মী। দু’বার বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা আছে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের সঙ্গেও তাঁর নিবিড় যোগাযোগ আছে। 
জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে নৌকার প্রার্থী হিসেবে সবাই ইনুর পক্ষে কাজ করেছে। গত নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বেঁকে বসেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তা ঠিক হয়ে যায়। 

যে কোনো মূল্যে কামারুলকে সরানোর জন্য ভেতরে ভেতরে উঠেপড়ে লেগেছেন জাসদ নেতারা। ভেড়ামারা ও মিরপুর উপজেলা জাসদের দুই নেতা বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে কিছুটা টানাপোড়েন থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবারের মতো এত কঠোর ছিলেন না। কামারুলের মাঠের অবস্থান ভালো বলেও স্বীকার করেন তারা। 

মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলী বলেন, ‘কামারুল ভোটের মাঠে থাকলে ইনুর জন্য কিছুটা সমস্যা তো হবেই। তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হবে বলে আমরা মনে করি।’
ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমুল ইসলাম ছানা বলেন, ‘জাসদ আমাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তাই একসঙ্গে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে।’ 
স্বতন্ত্র প্রার্থী কামারুল আরেফিন বলেন, ‘আমি জনতার নেতা। সবকিছু ছেড়ে আমি জনতার কাতারে চলে এসেছি। নির্বাচনে জনতার ভালোবাসা নিয়ে শেষ দিন পর্যন্ত মাঠে থাকতে চাই।’ 

আরও পড়ুন

×