ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

কক্সবাজারে স্বাবলম্বী আছিয়া নুরজাহানরা

কক্সবাজারে স্বাবলম্বী  আছিয়া নুরজাহানরা

অসহায়-দুস্থ নারীর জন্য এলজিইডির বিশেষ প্রকল্প

 কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২৩:১২

কক্সবাজারের পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নের বাসিন্দা আছিয়া খাতুন (৩৫)। বনিবনা না হওয়ায় ২০১৭ সালের মাঝামাঝি স্বামীর সংসার ছাড়েন তিনি। এরপর থেকে দুই সন্তান নিয়ে আছিয়া 
সংসার চালাতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েন। এরমধ্যে কাজের সন্ধানে এক জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তিনি কক্সবাজার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) যোগাযোগ করেন। পরে নির্বাহী প্রকৌশলীর সুপারিশে এলজিইডির সঙ্গে তাঁর এক বছরের জন্য কাজের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী এলাকায় গ্রামীণ সড়ক সংস্কারে ভালো কাজ দেখানোর ফলে দুস্থ আছিয়া খাতুনকে আর পেছন ফিরে থাকাতে হয়নি। প্রতি বছর কাজের নবায়নের পাশাপাশি কয়েক বছরের মধ্যে গড়ে তোলেন মুরগির খামার। কিনেছেন দুটি গরু। বিয়ে দিয়েছেন বড় মেয়েকে।

হঠাৎ এভাবে স্বাবলম্বী কীভাবে হলেন জিজ্ঞাসা করতেই আছিয়া খাতুন জানান, কাজের চুক্তি হচ্ছে স্বাবলম্বী হওয়ার একটা সুযোগ। এটি সরকার তৈরি করে দিয়েছে। এরপর চুক্তি অনুযায়ী মজুরি হিসেবে দৈনিক ৩০০ টাকার মধ্যে একশ টাকা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এবং আমার যৌথ ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতাম। ওই টাকার বিপরীতে ব্যাংক থেকে ঋণও নিয়েছি, যা দিয়ে মুরগির খামার গড়ে তুলেছি। মুরগি বেচে ব্যাংক ঋণও পরিশোধ করে দিয়েছি।

একইভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প শুনিয়েছেন উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরজাহান (৩৩)। তিনি অসুস্থ স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে অভাব-অনটন মেটাতে কাজের সন্ধানে ছিলেন। তখন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল উদ্দিনের পরামর্শে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে কাজের চুক্তিবদ্ধ হন। কাজ শুরুর তিন বছরের মধ্যে অসুস্থ স্বামীকে চিকিৎসা, দুই সন্তানকে লেখাপড়া করানোর পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন মুরগির খামার। দৈনিক মজুরি থেকে সঞ্চয় করা টাকা ব্যাংক থেকে তুলে খামারটি গড়ে তুলেছেন। নুরজাহান বলেন, এলজিইডির সঙ্গে কাজের এ সুযোগটি না পেলে হয়তো রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করতে হতো।

কক্সবাজার এলজিইডির তথ্য মতে, ২০১০ সাল থেকে কক্সবাজারের ৭ উপজেলার ৫৯ ইউনিয়নে ৮২৪ দুস্থ নারী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুটি প্রকল্পের আওতায় কাজ করছেন। দৈনিক ৩০০ টাকার মজুরির ভিত্তিতে তারা গ্রামীণ সড়ক সংস্কারে নিয়োজিত রয়েছেন। এরমধ্যে ১০০ টাকা সঞ্চয় হিসেবে নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখারও সুযোগ পাচ্ছেন। 
কক্সবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান বলেন, এটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায়-দুস্থ নারীকে স্বাবলম্বী করার অসাধারণ এক প্রকল্প। যে প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি করার সুযোগ নেই। কারণ, এখানে নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট নারীর যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়ে থাকে। তাই যার যার টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে চলে যায়। নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, আসলে প্রচার-প্রচারণা না থাকায় সুযোগ থাকার পরও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায়-দুস্থ নারীরা এগিয়ে আসতে পারছেন না। 

গত রোববার পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নের বাইন্নাঘোনা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামীণ একটি সড়ক সংস্কার করছেন ১০ নারী। 
এ সময় খালেদা বেগম নামের এক নারীশ্রমিক বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সব কাজ করে রাস্তা সংস্কারে কাজ করতে এসেছি। 
উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে প্রতি বছর ১৫ জন করে দুস্থ-অসহায় নারী এলজিইডির মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। তারা স্বাবলম্বী হয়ে উদ্যোক্তা হচ্ছেন।’ 
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি একটা সমাজের উন্নয়ন ঘটাতে চাইলে আগে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের এগিয়ে নিতে হবে। বর্তমান সরকার কক্সবাজারে প্রায় চার লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করছে। 

আরও পড়ুন

×