ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

‘ভোট হবে একমাত্র নৌকার, থাকবে না এজেন্ট’

‘ভোট হবে একমাত্র নৌকার, থাকবে না এজেন্ট’

মতবিনিময় সভায় নুর ইসলাম মিন্টু। ছবি: সমকাল

এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২০:৩৩

‘মন্ডতোষ ইউনিয়নে ভোট হবে উৎফুল্ল মনে, একমাত্র নৌকার। একমাত্র মকবুল সাহেবের নৌকার। এর বাইরে কোনো লোক কোনো এজেন্টও থাকবে না, কিচ্ছু থাকবে না। আমরা মমিনপাড়া সেন্টার (ভোটকেন্দ্র) দখল করে রাখব। আমরা ওপেন ভোট দেব। সেই জায়গায় আপনারা শুধু সহযোগিতা করবেন আমাদের।’

এভাবেই হুমকি দিয়েছেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম মিন্টু। রোববার রাতে উপজেলার মল্লিকচক গ্রামে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় এমন হুমকি দেন তিনি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে নৌকা মনোনীত প্রার্থী হলেন- তিনবারের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মকবুল হোসেন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও চাটমোহর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ মাস্টার।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়ন আওয়াম লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আফসার আলী এ নির্বাচনে ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করা স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হামিদ মাস্টারের পক্ষে কাজ করছেন। আর এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম মিন্টু। তিনি কাজ করছেন নৌকার প্রার্থী মকবুল হোসেনের পক্ষে।

রোববার রাতে উপজেলার মল্লিকচক গ্রামে নির্বাচনকে সামনে রেখে মতবিনিময় সভায় নুর ইসলাম মিন্টু তার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করেন। সভা চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম মিন্টুর আইডি থেকে লাইভ করা হয়। সেই ভিডিওটি এ প্রতিনিধির হাতে এসেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, নুর ইসলাম মিন্টু তার বক্তব্যে বলছেন, ‘মল্লিকচক গ্রাম বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত ছিল। কয়েকটা শয়তানের কারণে বিধ্বস্ত ছিল। এটা কে সমাধান করছে, ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাসানায়েন রাসেল (এমপি’র ছেলে) এবং এমপি সাহেবের (মকবুল হোসেন) নির্দেশনায় আজকে মল্লিকচকে শান্তি ফিরে আইছে। সেই জায়গা থেকে মকবুল হোসেনের নৌকাকে বিজয়ী করতে মল্লিকচকের যত লোক আছি আমরা মমিনপাড়া সেন্টারটা (ভোটকেন্দ্র) দখল করে রাখব। মমিনপাড়া সেন্টারে আমরা ওপেন ভোট দেব। যাতে ভাঙ্গুড়ার মানুষ বলতে পারে আমরা ওপেন ভোট করিছি।’

বক্তব্যে নুর ইসলাম মিন্টু আরও বলেন, ‘যত সন্ত্রাসী থাক, শত্রু থাক, এই এলাকার চেয়ারম্যান আফসার আলী যে নাটক করছেন, তার কোনো দাম নেই। আফসারের সাঙ্গপাঙ্গ যা আছে, ওদের হাড়-হুড্ডি ভাইঙ্গে এই এলাকা থেকে আমরা শেষ কইরে দেব। মন্ডতোষ ইউনিয়নকে একদম পরিচ্ছন্ন রাখব। মন্ডতোষ ইউনিয়নে ভোট হবে উৎফুল্ল মনে, একমাত্র নৌকার। একমাত্র মকবুল সাহেবের নৌকার। এর বাইরে কোনো লোক, কোনো এজেন্টও থাকবে না, কিচ্ছু থাকবে না। সেই জায়গায় আপনারা শুধু সহযোগিতা করবেন আমাদের।’

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হামিদ মাস্টার সমকালকে বলেন, ‘প্রচারণা শুরুর অনেক আগে থেকেই নৌকার নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে আমাকে এবং আমার সমর্থকদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। বিভিন্ন সভায় তারা নৌকা ছাড়া কাউকে ভোট করতে দেওয়া হবে না, নৌকায় ভোট না দিলে ভোট কেন্দ্রে আসার দরকার নেই, নৌকার বাইরে কেউ ভোট দিলে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে- এমন হুমকি দিচ্ছেন তারা। এতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতি থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। ভোটকে উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রধানমন্ত্রীর যে চ্যালেঞ্জ সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করছি।’

এ বিষয়ে মন্ডতোষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম মিন্টু সমকালকে বলেন, ‘ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের একটা মিটিং ছিল। গ্রামের মানুষ তো ভাই, তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে বক্তব্য দিতে গিয়ে দু’একটা কথা বলে ফেলেছি। এটা আসলে আমার বলা ঠিক হয়নি। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বলছেন, আমাদের উৎসবমুখর ভোট করতে হবে। এর তো কোনো বিকল্প নেই। বহির্বিশ্বের কাছে প্রমাণ করতে হবে গ্রহণযোগ্য ভোট হয়েছে। আসলে ভাই কথা বলতে বলতে দু’চারটা কথা বেশি হয়ে গেছে এই আর কি।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনিও কল রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন

×