ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

লটারিতে সুযোগ পাওয়াদের ভর্তি শেষ, তবুও চলছে লবিং

লটারিতে সুযোগ পাওয়াদের ভর্তি শেষ, তবুও চলছে লবিং

.

 শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম 

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:১৭

ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে পড়ার প্রবল ইচ্ছে ছিল ১২ বছরের মাঈনুল ইসলাম শাওনের। পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হতে অনলাইনে আবেদনও করে। কিন্তু স্কুলটিতে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সুযোগ রয়েছে মাত্র ২৭৪ জনের। অথচ এত কম আসনের বিপরীতে এখানে আবেদন জমা পড়ে ২০ হাজার ৭৬৩টি। এই অবস্থায় লটারি-ভাগ্যে নাম আসেনি শাওনের। ফলে স্বপ্নের বিদ্যাপীঠে পড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় তার। শুধু শাওনেরই নয়, পছন্দের সরকারি স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া অনেকটাই সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রামের মেধাবী অনেক শিক্ষার্থীর কাছে। 

জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর ১০টি সরকারি স্কুলে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণিতে শূন্য আসনের সংখ্যা মাত্র ২ হাজার ৪২৪টি। অথচ গত ২৩ অক্টোবর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলা ভর্তি আবেদন কার্যক্রমে এবার আবেদন জমা পড়ে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৪টি। সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তিতে কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারি শেষে ফল প্রকাশ হয় গত ২৮ নভেম্বর। এরপর লটারিতে সুযোগ পাওয়াদের ভর্তি কার্যক্রমও প্রায় শেষ। ফলে এখন অপেক্ষমাণসহ লটারিতে নাম না থাকা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও সন্তানকে সরকারি স্কুলে ভর্তি করাতে তদবির-লবিং চালাচ্ছেন। এমন অভিভাবকদের কয়েক হাজার আবেদন সম্প্রতি জমা পড়েছে জেলা প্রশাসনে। যা নিয়ে বিব্রত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)।
অভিভাবকরা বলছেন, বেসরকারি স্কুলে কয়েক গুণ বাড়তি ফি দিয়ে সন্তানকে ভর্তি করানো মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্তদের পক্ষে কঠিন। তাই সবার লক্ষ্য থাকে সন্তানকে সরকারি স্কুলে পড়ানো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আসন সংখ্যা না বাড়ায় বহু শিক্ষার্থী সরকারি স্কুলে ভর্তি বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারি স্কুলের সংখ্যা বাড়ানো গেলে এই সমস্যা কিছু হলেও কমত। 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ১০টি বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে এবার ১ হাজার ৫৪৫টি শূন্য আসন ছিল। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৫০০টি, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে ১০টি করে এবং নবম শ্রেণিতে ৩৫৯টি শূন্য আসন ছিল। এর মধ্যে সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রভাতি ও দিবা শাখায় ৩৫৯টি শূন্য আসনের বিপরীতে আবেদন আসে ২৩ হাজার ৯২০টি। ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৫৫টি আসনের বিপরীতে ১৯ হাজার ৩৯১টি, নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৩৪টির বিপরীতে ১৮ হাজার ৮৮৮টি, চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৩৯টির বিপরীতে ১৮ হাজার ৩৭৭টি, বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৫৭টির বিপরীতে ১৬ হাজার ৩৬০টি, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৩৯টি আসনের বিপরীতে ৮০৭২টি, সিটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৩৮টির বিপরীতে ৫ হাজার ৯২৩টি এবং চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১০টি শূন্য আসনের বিপরীতে ২ হাজার ৪৮১টি আবেদন জমা পড়ে।

জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘সন্তানকে সরকারি স্কুলে ভর্তির সুযোগ দিতে আবেদন-নিবেদন জানাতে অনেকে আমার কাছে ছুটে আসছেন। কেউ লিখিতভাবেও আবেদন করছেন। অনেকে মন্ত্রী, এমপিসহ জনপ্রতিনিধি দিয়ে ফোন করাচ্ছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয়ভাবে হওয়া লটারির বাইরে একজন শিক্ষার্থীকেও ভর্তির সুযোগ নেই।’ 
একই প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, ‘আমার দপ্তরে অভিভাবকদের কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়েছে। আমার মোবাইলেও বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন জনের মাধ্যমে পাঁচ শতাধিক সুপারিশ এসেছে। এটি নিয়ে আমরা বিব্রত। ভর্তির প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে করা হয়েছে। এর বাইরে কাউকে ভর্তির সুযোগ নেই।’

আরও পড়ুন

×