ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

একতারাকে জায়গা দিতে সরছে নৌকা!

একতারাকে  জায়গা দিতে সরছে নৌকা!

ফাইল ছবি

 ইকবাল হোসেন মনজু, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:৪১ | আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০৭:০৫

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে নৌকার প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন বলে চাউর হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে এ আসনে একতারা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারীর সাম্প্রতিক সাক্ষাতের পর নৌকার সরে যাওয়ার আলোচনা জোরদার হয়েছে। এতে সনির অনুসারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। পাল্টে যাচ্ছে ভোটের চিত্র। যদিও এসব আলোচনাকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নৌকার প্রার্থী সনি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

১৫ বছর পর এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে সনির হাতে নৌকা তুলে দেয় আওয়ামী লীগ। সূত্রের দাবি, শেষ মুহূর্তে এসে সরকারঘেঁষা বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারীকে সমর্থন দিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

এ বিষয়ে সৈয়দ সাইফুদ্দিনকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি। তবে বিএসপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ ইবরাহিম মিয়া সমকালকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে গেলে আমাদের চেয়ারম্যানকে তিনিই সমর্থনের আশ্বাস দেন। পরে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে চট্টগ্রাম জেলা উত্তর এবং ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতা ও দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের একতারাকে সমর্থন দিতে নির্দেশনা দিয়েছে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এক সভায় নেতাকর্মীর উদ্দেশে খাদিজাতুল আনোয়ার সনি বলেছেন, ফটিকছড়িতে নৌকা ছিল, আছে এবং থাকবে। একতারাকে সমর্থন দিয়ে নৌকা সরে যাচ্ছে বলে একটি মহল গুজব রটিয়েছে। কারও গুজবে কান দেবেন না।
উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান বলেন, এবারের নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং। 

আমাদের দল থেকেই স্বতন্ত্র কিংবা বিদ্রোহী হিসেবে অনেকে প্রার্থী হয়েছেন। তাদের দল থেকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো এবং একতরফা নির্বাচনের অপবাদ ঘুচিয়ে অংশগ্রহণমূলক করতে। কিন্তু তার অর্থ এই নয়, নৌকাকে ডোবাতে হবে। সবাইকে ঐক্যভাবে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

নৌকা প্রার্থীর সরে যাওয়ার বিষয়ে কেন্দ্র থেকে কোনো নির্দেশনা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী গতকাল সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, একটি মহল ফেসবুকে এ ধরনের গুজব রটাচ্ছে। তবে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নৌকার সরে দাঁড়ানোর নির্দেশনা পাইনি। সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত হলে ১৭ ডিসেম্বরের আগেই হতো। হয়তো নির্বাচন প্রভাবিত করার জন্য এসব করা হচ্ছে। নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকতে হবে। এখানে নৌকার বিজয় রুখে দেওয়ার সাধ্য কারও নেই।

চট্টগ্রাম-২ আসনে ক্ষমতাসীন জোটের সমর্থনে বর্তমান এমপি তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। তাঁরই ভাতিজা সৈয়দ সাইফুদ্দিনের বিএসপি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেয়ে আলোচনায় এসেছে। এখানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য হোসাইন মো. আবু তৈয়ব।

ওই সূত্রের দাবি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা দলের মনোনয়ন চেয়েও পাননি। এরপর থেকে অনুসারীদের নিয়ে তিনি নৌকার প্রার্থী সনির বিরুদ্ধে গোপনে অবস্থান নিয়েছেন। সুযোগ বুঝে এ নেতাকে ঢাল বানিয়ে সৈয়দ সাইফুদ্দিন আওয়ামী লীগের সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন এবং সফল হন। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সাইফুদ্দিন নির্বাচনী এলাকায় ফেরার পরই পাল্টে গেছে ভোটের হিসাবনিকাশ। একতারার কর্মীরা ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও গত দু’দিন নৌকার প্রচার চলছে ঢিমেতেতালে।

 

আরও পড়ুন

×