ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

টাঙ্গাইলে নৌকা পেয়েও শঙ্কায় ৬ প্রার্থী

টাঙ্গাইলে নৌকা পেয়েও শঙ্কায় ৬ প্রার্থী

টাঙ্গাইলে শঙ্কায় ৬ প্রার্থী

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২১:৪৫ | আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২১:৪৮

টাঙ্গাইলে নৌকা পেয়েও পরাজয়ের শঙ্কায় আছেন ছয় প্রার্থী। জেলার আট আসনের মধ্যে পাঁচটিতে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে নৌকার প্রার্থীদের। আর টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে আওয়ামী লীগের অনুপম শাহজাহান জয়কে ছেড়ে কথা বলবেন না কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান এমপি তানভীর হাসান ছোট মনিরকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন স্বতন্ত্র হয়ে লড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুছ ইসলাম তালুকদার। অনুসারীদের নিয়ে তাঁর পক্ষে ভূঞাপুর পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুদুল হক মাসুদ, গোবিন্দাসী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান আমিন, চেয়ারম্যান মাসুদ মিয়া, গোপালপুর পৌর মেয়র রকিবুল হক ছানা, ঝাওয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান তালুকদার, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক, সাবেক এমপি আসাদুজ্জামানের ছেলে মশিউজ্জমান রোমেলকে মাঠে দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে দু’পক্ষ।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে নৌকা পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। এখানে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে পাননি বর্তমান সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান। তবে স্বতন্ত্র হয়ে লড়ছেন তাঁর ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খানা রানা। ২০১৩ সালে শহরের কলেজপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় প্রায় তিন বছর কারাগারে ছিলেন রানা। তবে এলাকায় রানার শক্ত অবস্থান থাকায় নৌকাকে ভুগতে হতে পারে।

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য ও পাঁচবারের এমপি লতিফ সিদ্দিকী। হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে মন্ত্রিত্ব হারানোর পর দল থেকেও বহিষ্কৃত হন। এখানে লতিফ সিদ্দিকীর প্রধান প্রতিপক্ষ তাঁরই রাজনৈতিক শিষ্য কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নৌকার প্রার্থী মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে থাকায় নৌকা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে দু’বারের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছানোয়ার হোসেন মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হয়ে লড়ছেন। আছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ভাই মুরাদ সিদ্দিকীও। দু’জনই নৌকার প্রার্থী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুন অর রশিদকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী প্রকাশ্যে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট করছেন।

টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে সাতবারের এমপি একাব্বর হোসেনের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে এমপি হন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান আহমেদ শুভ। এবারও তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। তাঁর পক্ষে ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ, সাবেক এমপি একাব্বর হোসেনের ছেলে ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার তাহরিম হোসেন সীমান্ত, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ, রাফিউর রহমান ইউসুফজাই, উপজেলা সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ লিটনসহ অনেকে সরাসরি মাঠে নেমেছেন।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি বলেছেন, ছয় প্রার্থী কিছুটা চ্যালেঞ্জে থাকলেও তিনটিতে নৌকার জয় সুনিশ্চিত। সময় যত গড়াবে নেতাকর্মী ও ভোটাররা নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হবে। আশা করছি, সবগুলোতেই জিতবে নৌকা।

আরও পড়ুন

×