ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই বাবাকে হত্যা, মেয়ে গ্রেপ্তার

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই বাবাকে হত্যা, মেয়ে গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার মেয়ে সাহেরা খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:০৬ | আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:১১

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বৃদ্ধ জাহের উদ্দিনকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে মেয়ে সাহেরা খাতুন। শনিবার তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার কমলপুর গ্রামে নিজ ঘর থেকে গত শুক্রবার সকালে জাহের উদ্দিনের (৭৫) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী আনিছা বেগম, মেয়ে আনোয়ারা আক্তার নূপুরসহ পাঁচজনকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে জাহের উদ্দিনের হত্যার দায় স্বীকার করে মেয়ে সাহেরা খাতুন। পরে নিহতের স্ত্রী আনিছা বেগম বাদী হয়ে মেয়ে সাহেরা খাতুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এতে কয়েকজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কমলপুর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিবেশী সনু মিয়াকে গত ৯ ডিসেম্বর বল্লমের আঘাতে হত্যা করে জাহের উদ্দিনের ছেলেরা। এতে জাহের উদ্দিনের স্ত্রী, তিন ছেলে, এক মেয়েসহ আটজনকে আসামি করা হয়। এর জেরে বৃদ্ধ জাহের উদ্দিনকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দোষ প্রতিপক্ষের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা করে সাহেরা খাতুন (৪২)। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জাহের উদ্দিনের মাথায় দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে সাহেরা। এ সময় গোঙানির শব্দ শুনে নিহত জাহের উদ্দিনের স্ত্রী আনিছা বেগম ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। স্বামীকে খুনের ঘটনা দেখে তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। সাহেরা তখন বলতে থাকে, প্রতিপক্ষের লোকজন তার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তবে পরিদন সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সন্দেহ হয় পুলিশের।

জাহের উদ্দিনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে স্ত্রী আনিছা বেগম, মেয়ে আনোয়ারা আক্তার নূপুর, ছেলের বউ আজমিরাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উঠে আসে। এর পর গ্রেপ্তার করা হয় সাহেরা খাতুনকে।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন জানান, মায়ের দায়ের মামলায় সাহেরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×