ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

দুর্যোগ সহনীয় নয় চরের স্কুল, ব্যাহত হয় পাঠদান

দুর্যোগ সহনীয় নয় চরের স্কুল, ব্যাহত হয় পাঠদান

সুন্দরগঞ্জের বেলকা চরের মহিষবান্ধি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনশেড ভবন। সামনের মাঠে দৌড়ে যাচ্ছে এক শিক্ষার্থী। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যায় না প্রতিষ্ঠানটি সমকাল

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:২০

চরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অবহেলিত। প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যায় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি হয়। সরকারি যে বরাদ্দ আসে, তা দিয়ে অবকাঠামো ও উপকরণ সংস্কার করা সম্ভব হয় না। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও অসচেতন। কথাগুলো সুন্দরগঞ্জের মহিষবান্ধি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসলিম আলীর। তাঁর ভাষ্য, চরের প্রতিষ্ঠান দুর্যোগ সহনীয় করে নির্মাণ এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সবাইকে প্রশিক্ষিত করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, তিস্তার চরাঞ্চলে দুর্যোগ সহনীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশ্রয়কেন্দ্রের অভাব রয়েছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা নেই। অনেক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো পাকা নয়। টিন বা বাঁশের বেড়া দিয়ে নির্মিত এসব প্রতিষ্ঠানে দুর্যোগের সময় আশ্রয়ের মতো অবস্থা থাকে না। এ কারণে বন্যার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখা এবং শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের সচেতন করতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।
চরের বেশির ভাগ ছেলেমেয়ে বন্যার আগে, চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে কী করণীয়– তা জানে না বলে দাবি অভিভাবক আনোয়ারুল ইসলামের। তিনি বলছিলেন, চরের ছেলেমেয়েদের নৈতিক শিক্ষা, সাঁতার শেখানো এবং সাহসী মনোভাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। অভিভাবকদের শিশু সুরক্ষা ও জেন্ডার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। দুর্যোগের সময় বা বন্যা হলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। পাঠদান ব্যাহত হয়। মহিষবান্ধি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেলকা বটতলা দাখিল মাদ্রাসা, হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, নাজিমাবাদ বিএল উচ্চ বিদ্যালয় ও কাশিমবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সমস্যা আরও প্রকট। বিশুদ্ধ পানি, টয়লেট, বিদ্যুৎ বা সোলার প্যানেলের ব্যবস্থা নেই। অবকাঠামোও দুর্যোগে ব্যবহারের অনুপযোগী।
সরেজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, অফিস, টয়লেট, নলকূপ ও বাউন্ডারি ওয়াল নেই। যাওয়া-আসার সড়কের অবস্থা বেহাল। বিদ্যুৎ বা সোলার প্যানেল ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। বসার চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ আছে হাতে গোনা। হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র বোরহান মিয়ার কথায়, বন্যা হলেই স্কুলে পাঠদান বন্ধ থাকে। সে জন্য চরে বিদ্যালয়ের উঁচু ভবন নির্মাণ এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে নৌকার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। 

বন্যার সময় বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটুপানি ঢুকে পড়ে জানিয়ে নাজিমাবাদ বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন মিয়ার ভাষ্য, পানিতে তলিয়ে যায় নলকূপ, টয়লেট ও ওয়াশরুম। শ্রেণিকক্ষেও পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান ব্যাহত হয়। কাশিমবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল ওয়াহেদ বলেন, চরের প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো দুর্বল। প্রতিবছর বন্যায় ক্ষতি হয়। বন্যা সহনীয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠান নির্মাণ প্রয়োজন।
বন্যার পরে চরের প্রতিষ্ঠান পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে যায় স্বীকার করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মমিন মণ্ডল বলেন, বন্যার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয়। সংস্কারের জন্য সরকারিভাবে তেমন কোনো বরাদ্দ থাকে না। সরকারি বা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে চরের প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্যোগ সহনীয় করে নির্মাণ করা প্রয়োজন।
চরাঞ্চলের বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিনশেড ভবন রয়েছে বলে জানান উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওয়ালিফ মণ্ডল। তিনি বলেন, এসব ভবন দুর্যোগ মোকাবিলার উপযোগী নয়। গুটি কয়েক প্রতিষ্ঠানের ভবন রয়েছে। গাইবান্ধা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী শাহজামাল মিয়ার ভাষ্য, চরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্যোগ সহনীয় ভবন নির্মাণ হয়নি। এ ধরনের ভবন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় নির্মাণ করে।

আরও পড়ুন

×