ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

নৌকা জাসদের হাতে আ’লীগই চায় রুখতে

নৌকা জাসদের হাতে আ’লীগই চায় রুখতে

.

 বেলাল হোসেন জুয়েল, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:৪০

শরিকদের ছাড় হিসেবে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে নৌকা পেয়েছেন জাসদের (ইনু) সহসভাপতি মোশারফ হোসেন। এ সিদ্ধান্তে শুরুতে তৃণমূল নেতাকর্মীরা নীরব থাকলেও এখন খোলস ছেড়ে বের হয়েছেন। অনুসারীদের নিয়ে রামগতি ও কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা জাসদের হাতে থাকা নৌকা ঠেকাতে একাট্টা। প্রতিদিন তারা দলের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এতে নৌকা নিয়েও পরাজয়ের শঙ্কায় আছেন মোশারফ হোসেন।
এ আসনের মোট ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নৌকার সঙ্গে লড়াই হবে ঈগল ও ট্রাকের। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন ঈগল এবং দলের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইস্কান্দার মির্জা শামীম ট্রাক নিয়ে লড়ছেন।

নৌকার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ মুরাদ, সহসভাপতি ড. আশ্রাফ আলী চৌধুরী সারু, সহসভাপতি জাকির হোসেন লিটন চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা ও চরগাজী ইউপি চেয়ারম্যান তাওহীদুল ইসলাম সুমন, রামগতি পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ারেছ মোল্লা, বড়খেরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান হাসান মাকসুদ মিজান, সাধারণ সম্পাদক ওছমান গণি, আলেকজান্ডার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমজাদ হোসেন, চরগাজী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন হেলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক শোয়াইব খন্দকার, কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক সবুজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ উল্যাহ, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আবদুল বাছেত, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক জহির উদ্দীন ভূঁইয়া, সদস্য ফয়সল আহম্মদ রতন, আশ্রাফ উদ্দিন রাজন, মোস্তাফিজুর রহমান, হেলাল উদ্দিন হিমেল, চরকালকিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, হাজিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, কমলনগর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন বাপ্পি, যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্যাহ হিরন, যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক সাগর। অনেকে আবার দিনে নৌকা প্রার্থীর সঙ্গে ঘুরলেও গোপনে দুই স্বতন্ত্রকে সমর্থন দিচ্ছেন।

রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ মুরাদ বলেছেন, দল স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে নিষেধ করেনি। এ জন্য আমি ঈগলের পক্ষে ভোট করছি। তবে রামগতি পৌরসভার মেয়র এম মেজবাহ উদ্দিন মেজু ও কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম নুরুল আমিন রাজু বলেছেন, সবার উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকাকে জেতানো। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুদ্দীন চৌধুরী নয়ন বলেছেন, নৌকার বাইরে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন, শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও ইস্কান্দার মির্জা শামীম জানিয়েছেন, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নির্বাচনী মাঠ উন্মুক্ত রাখায় তারা প্রার্থী হয়েছেন। সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।
নৌকার প্রার্থী মোশারফ হোসেন বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কিছু আওয়ামী লীগ নেতা নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এতে কিছুটা সমস্যা হলেও, আমার বিশ্বাস নৌকার জয় তারা রুখতে পারবে না।

আরও পড়ুন

×