ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

ফরিদপুর-৩: স্থানীয় বিরোধে নৌকার ক্যাম্পে তৃতীয় পক্ষের আগুন!

ফরিদপুর-৩: স্থানীয় বিরোধে নৌকার ক্যাম্পে তৃতীয় পক্ষের আগুন!

নৌকার ক্যাম্প। ফাইল ছবি

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২৩:৪৮

ফরিদপুরের-৩ (সদর) আসনের দয়ারামপুরে নৌকার ক্যাম্প পোড়ানোকে কেন্দ্র করে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। যদিও ঘটনার পর এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ. কে. আজাদের সমর্থকরা অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় জেলা সদরের মাচ্চর ইউনিয়নের দয়ারামপুরের নৌকার সেই ক্যাম্পটিতে গেলে সেখানে পাওয়া যায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সোহরাব আলী খান ও কেরাম খানসহ বেশ কয়েকজনকে। বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব আলী ওই ক্যাম্পর আহ্বায়ক। তিনি জানান, মধ্যরাতে নৌকার ক্যাম্পটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। কে বা কারা আগুন তা আমরা কেউ দেখিনি। স্থানীয় দয়ারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে একটি মহলের সঙ্গে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলীর পরিবারের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। 

তিনি আরও বলেন, এটা কোনোভাবেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের কাজ না। বরং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নৌকার প্রার্থীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করতেই তৃতীয় পক্ষ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। 

নৌকার ওই ক্যাম্পে উপস্থিত কেরাম খাঁন জানান, তার ভাই প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলীর নামে সম্প্রতি স্থানীয় প্রশাসন দয়ারামপুর বাজারের নামকরণ করে। এতে ক্ষুব্ধ হন বিএনপি নেতা হায়দার আলী ও শান মল্লিকের ছেলে শফিকুল। আমার ধারণা ঈগল সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটাননি। ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বিএনপি নেতা হায়দার আলী ও শান মল্লিকের ছেলে শফিকুল। সেদিন রাতে তার ভাইয়ের নামে লাগানো নামফলকটিও উঁপড়ে ফেলা হয় এবং ফলকটি নৌকার ক্যাম্পে নিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঈগল এবং নৌকার সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনী বিরোধ সৃষ্টি করতে তৃতীয় পক্ষ এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তার ধারণা।

তবে বিএনপি নেতা হায়দার আলী শেখ বলেন, ‘এর সঙ্গে আমি বা বিএনপির কেউ জড়িত কি-না, তদন্ত করতে পারেন। আমি ওই দিন ফরিদপুর শহরে ছিলাম। কোনোভাবেই আমি এবং বিএনপির লোকজন এই অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত নই।’ 

ঘটনার পর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলী খানের ছেলে বকুল খান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। বকুল খান বলেন, ‘এ ঘটনা ঈগল সমর্থকরা ঘটাননি। স্থানীয় বিরোধের জেরে নৌকার ক্যাম্পে এ অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে ধারণা করছি।’ 

ঘটনাটির তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা বলেন, কে বা কারা অগ্নিসংযোগ করেছে তার কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর, কি কারণেই বা অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত নই। তবে, বিষয়টি তদন্ত করে আসল ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নৌকার প্রার্থী শামীম হকের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

এছাড়া তাঁর নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক ফরিদপুর পৌর মেয়র অমিতাভ বোসকেও কয়েকদফা কল দেওয়া হলেও তিনিও কল ধরেননি। তবে তিনি ঘটনার দিন গণমাধ্যমকে ঈগল সমর্থকদের বিরুদ্ধে নৌকার ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলেছিলেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন বলেন, নির্বাচনী ব্যস্ততায় পক্ষ-বিপক্ষে অনেকগুলো ঘটনাই ঘটছে। তাই এই মুহূর্তে বিষয়টি মনে পড়ছেনা।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, বিষয়টি তদন্তে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি আছে, তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা এখনও রিপোর্ট জমা দেয়নি।

আরও পড়ুন

×