ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

শীতে কাঁপছে অগ্নিকাণ্ডে গৃহহীন রোহিঙ্গারা

শীতে কাঁপছে অগ্নিকাণ্ডে গৃহহীন রোহিঙ্গারা

আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়ির ছাইয়ে বসে আছে এক রোহিঙ্গা শিশু। ছবি: সংগৃহীত

 আব্দুর রহমান, টেকনাফ (কক্সবাজার)

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৪ | ১৩:০৯

ভয়াবহ আগুনে গত ১১ জানুয়ারি রাতে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-৫) প্রায় ১১০০ ঘর পুড়ে যায়। এতে গৃহহীন হয়ে পড়ে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা। অগ্নিকাণ্ডের আট দিন পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্তদের মাথা গোঁজার ঠাঁই মেলেনি। তীব্র শীতে খোলা আকাশের নিচে তারা মানবেতর দিন পার করছেন। শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে ঠান্ডাজনিত রোগে। এ অবস্থায় দ্রুত শীতবস্ত্র ও মাথা গোঁজার আশ্রয় চান ক্ষতিগ্রস্তরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আশ্রয়শিবির ঘুরে দেখা গেছে, ত্রিপলের ছাউনিতে বসে আছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। ছাউনির চারদিক ফাঁকা। তীব্র শীতে সেখানে বসে কাঁপছে তারা। আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের ওপর বসেছিলেন বৃদ্ধা সোয়া বানু। তিনি বলেন, ‘আমার কেউ নেই। একমাত্র সম্বল ঘরটিও আগুনে পুড়ে গেল। ঠান্ডায় রাতে ঘুমাতে পারি না। কোনো শীতবস্ত্র নেই। খাবার নেই। মাথা গোঁজার ঠাঁই জোটেনি আজও। দিনে পোড়া ঘরের ওপর বসে থাকছি, রাত হলে অন্যের বাড়ি যাই।’

পাশেই ত্রিপলের ছাউনি তৈরি করছিলেন নুর নাহার। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে খুব ঠান্ডা লাগছে। ছোট কম্বলে কাজ হচ্ছে না। ছাউনি দিয়ে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এভাবে আর কতদিন থাকতে হবে জানি না।’

কুতুপালংয়ের ৫ নম্বর ক্যাম্পের প্রধান মাঝি হামিদ হোসাইন বলেন, সেদিন রাতে একটি ঘরে আগুন পোহাচ্ছিলেন কয়েকজন। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ১১০০ ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা এখনও কেউ মাথা গোঁজার ঠাঁই পায়নি। তীব্র শীতে রোহিঙ্গাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। অনেকে সর্দি-কাশিতে ভুগছে। শিশুদের কষ্ট হচ্ছে বেশি। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) পক্ষ থেকে গৃহহীনদের ঘরবাড়ি নির্মাণে তিনটি এনজিওকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি এনজিও ছাড়া কেউ কাজ শুরু করেনি।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রণয় রুদ্র বলেন, শীতে নারী-শিশুরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, সর্দি-জ্বর-কাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালে আসা প্রত্যেককে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা নয়ন বলেন, আগুনে পুড়ে গৃহহীন রোহিঙ্গাদের ঘর মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া তাদের নিয়মিত খাবার দেওয়া হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক তাদের খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×