ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

পুলিশের ‘গভীর তদন্তের’ ফল এক মাসেও শূন্য

বেলকুচিতে বিস্ফোরণ

পুলিশের ‘গভীর তদন্তের’ ফল এক মাসেও শূন্য

ম্যাপ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৪ | ১৪:০১

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে কুষ্টিয়ার বাসিন্দা ফজলু শেখ (৪৫) কীভাবে নিহত হয়েছেন, এর রহস্য এক মাসেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেপ্তার হয়নি এ ঘটনায় দায়ের মামলার প্রধান আসামি সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা মোতালেব সরকারসহ অন্যরা। পুলিশ বলছে, বিষয়টির গভীর তদন্ত চলছে। তবে এলাকাবাসী এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে দায়সারা তদন্ত পরিচালনার অভিযোগ এনেছেন। তারা বলছেন, এক মাসেও তাদের ফল শূন্য। 

স্থানীয় লোকজন গত ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে পৌর এলাকার সুবর্ণসাড়ার সরকারবাড়ি থেকে বিস্ফোরণের শব্দ পান। ওই বাড়িতে থাকেন মোতালেবের প্রথম স্ত্রী খালেদা বেগম। এলাকাবাসীর ভাষ্য, শব্দ পেয়ে লোকজন এগিয়ে গেলেও বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তারা জানায়, কালো রঙের মাইক্রোবাসে আহত অবস্থায় দু’জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ওই দিন সাংবাদিক ও পুলিশকে প্রেশার কুকার বিস্ফোরণ হয়েছে বলে মোতালেব জানিয়েছিলেন। আহত দু’জনের হদিসও সেদিন মেলেনি। এরই মধ্যে কুষ্টিয়ার বাসিন্দা ফজলু শেখ ২২ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি বেলকুচির ওই বিস্ফোরণে আহত হয়েছিলেন বলে ঢাকার শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়। 

এসব বিষয়ে সমকালসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হয়। নানা নাটকীয়তার পর নিহত ফজলুর ভাই বিপুল রহমান শেখ বিপ্লব ২৫ ডিসেম্বর বেলকুচি থানায় মামলা (নং-১০) করেন। এতে আসামি করা হয় মোতালেবকে। বোমার পরিকল্পনাকারী, তৈরি, রসদ ও জনবল সংগ্রহসহ অন্য অভিযোগে আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়।

রহস্যজনক কারণে এ মামলাটির দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুল মমিন মণ্ডলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে মোতালেবের। বিস্ফোরণের আগে নিয়মিতই তাঁকে নৌকার প্রচারে দেখা গেছে।

২৩ ডিসেম্বর সিআইডির পরিদর্শক মোহাইমিনুল সরকারের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিশ্চিত হয়, সেখানে বোমাই বিস্ফোরিত হয়েছে। তিনি বুধবার সমকালকে বলেন, ‘ঘটনার তিন দিন পর সুবর্ণসাড়া গ্রামে ছায়া তদন্তে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখেছি, আসামিরা আগেই আলামত নষ্ট করে ফেলেছে।’

মামলার বাদী বিপুল রহমানের সঙ্গে এক মাসেও পুলিশ যোগাযোগ করেনি। তারাও যোগাযোগ করেননি। বিপুলের ভাষ্য, ‘ভাই ফজলু শেখকে কবর দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জে যাই। আমরা পুলিশকে বলি, যে মারা গেছে সে বিষয় নিয়ে নাড়াচাড়া করতে চাই না। মামলা-মোকদ্দমা করলে পেরে উঠব না। থানার বড় অফিসার (ওসি) বলেছেন, আমরা যেটাই হোক করব।’ তখন তাঁর কাছ থেকে কাগজে লিখিত নিয়েছিলেন ওসি। নির্বাচনের পর সমাধানেরও আশ্বাস দিয়েছিলেন।

মামলার তদন্ত করছেন বেলকুচি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আহসানুজ্জামান। তিনি আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি জানালেও দাবি করেন, তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। এ জন্য তথ্যপ্রযুক্তিও ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাও তদন্ত করছে। 

ওই থানার ওসি আনিছুর রহমানও দাবি করেন, আসামি ধরতে তৎপর রয়েছেন। শিগগির তারা ধরা পড়বে।

তবে তদন্তে ধীরগতিতে এমন মন্তব্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক সাবেক-বর্তমান জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা। বেলকুচি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আকন্দ চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার রহস্য এক মাসেও উদ্ঘাটন করতে না পারাকে রহস্যজনক হিসেবে উল্লেখ করেন। পৌরসভার মেয়র সাজ্জাদুল হক রেজার অভিযোগ, শুরুতেই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটি ধামাচাপার চেষ্টা হয়। এখনও সে প্রক্রিয়াই চলছে। এ কারণে শুধু মামলাই হয়েছে। কোনো অগ্রগতি দেখছেন না তিনি। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশানূর বিশ্বাস বলেন, মামলা নেওয়ার পরই পুলিশ নীরব। এই ওসি (আনিছুর) যতদিন আছেন, ততদিন এটা নিয়ে কিছু হবে না।

তদন্তকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে মন্তব্য করেন সহকারী পুলিশ সুপার (বেলকুচি সার্কেল) জন রানা। আর পুলিশ সুপার মো. আরিফুর রহমান মণ্ডলের ভাষ্য, ‘মামলাটি আমরা গভীরভাবে তদন্ত করছি। বিস্ফোরণে যে লোকটি মারা গেলেন– তিনি কীভাবে, কোন লিংকের (সূত্রে) মাধ্যমে এখানে এলেন সেটিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

×