ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

কাপাসিয়ায় দ্বাদশ শতাব্দীর দুর্গ ও প্রত্নবস্তুর সন্ধান

কাপাসিয়ায় দ্বাদশ শতাব্দীর দুর্গ ও প্রত্নবস্তুর সন্ধান

খননে বেরিয়ে আসছে ঐতিহাসিক দরদরিয়া দুর্গ। ছবি-সমকাল

গাজীপুর ও কালিয়াকৈর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৪ | ২২:৪২

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে দ্বাদশ শতাব্দীতে ইটনির্মিত ঐতিহাসিক দরদরিয়া দুর্গ বা রানী ভবানীর দুর্গের ধ্বংসাবশেষ ও বিভিন্ন প্রত্নবস্তুর সন্ধান পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) গবেষকরা। ইতিহাসে এই স্থাপনাটি একডালা দুর্গ নামেও পরিচিত। এই প্রত্নস্থলটি গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে খনন শুরু হয়েছে। জাবির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এই খননকাজ চলছে। এই কাজে যুক্ত আছেন তাঁর গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ঐতিহ্য অন্বেষণ’ এর বেশ কয়েকজন প্রত্নতাত্ত্বিক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দরদরিয়া গ্রামে বানার নদের পূর্ব পাড়ে ছিল ইতিহাসবিখ্যাত রানী ভবানী দুর্গের ধ্বংসাবশেষ। ধারণা করা হয় এটি বানিয়া রাজার আমলে নির্মিত। রানী ভবানী ছিলেন বানিয়া রাজার শেষ বংশধর। দুর্গটিকে অনেকে ‘রানীর বাড়ি’ নামেও ডাকে। ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম অভিযানের সময় রানী ভবানী ওই দুর্গে বসবাস করছিলেন। বলা হয়, বাংলার দ্বিতীয় স্বাধীন সুলতান শামস উদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৫৩ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক বাহিনীর হাতে আক্রান্ত হলে একডালা দুর্গে অবস্থান নেন। কিন্তু ফিরোজ শাহ তুঘলক ২২ দিন অপেক্ষা করেও সুলতান ইলিয়াস শাহকে পরাস্ত করতে পারেননি।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক (ঢাকা বিভাগ) কর্মকর্তা আফরোজা খান জানান, প্রায় আড়াইশ বছর আগে ১৭৭৯ সালে প্রকাশিত বেঙ্গল অ্যাটলাসে জেমস রেনেল একডালা দুর্গের অবস্থান দেখিয়েছেন কাপাসিয়া অঞ্চলে। প্রাথমিক জরিপে দুর্গের আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফিচার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। এই মুহূর্তে বহিঃস্থ দুর্গ-প্রাচীর সম্পর্কে ধারণা কিছুটা স্পষ্ট হয়েছে। বহিঃস্থ দুর্গ-প্রাচীরটি প্রায় অর্ধচন্দ্রাকৃতির। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, দরদরিয়া দুর্গ প্রাচীনকালে ছিল খুবই শক্তিশালী দুর্গ। 

শুক্রবার বিকেলে দরদরিয়া গ্রামে খনন এলাকা পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমি। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সামনে দুর্গ প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও খননে আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তুর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য ও পর্যটনকে আকৃষ্ট করতে দরদরিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দেশ পর্যটকদের মাধ্যমে বড় রাজস্ব আয় করছে। এটা বাংলাদেশের জন্য উল্লেখযোগ্য প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন আবিষ্কার। আজ আমরা একটা স্বপ্ন স্পর্শ করলাম। এটা বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।’

ঐতিহ্য অন্বেষণের সভাপতি ড. নূহ-উল-আলম লেনিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, ইউএনও মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আফরোজা খান প্রমুখ। 

আরও পড়ুন

×