ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতি

বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতি

.

রাজ্জাক মিকা, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৪ | ০০:১২

দেওয়ানগঞ্জে সানন্দবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গোপনে সম্পন্ন করেছেন নিয়োগ প্রক্রিয়া। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। গোপনে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন তারা।
সানন্দবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক, একজন কম্পিউটার অপারেটর, একজন অফিস সহকারী কাম হিসাবরক্ষক, একজন নিরাপত্তা কর্মী এবং একজন পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় লোকজন। তাদের দাবি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে গোপনে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। কাগজকলমে নিয়ম বজায় রেখে নিয়োগ দেখানো হলেও আসলে মানা হয়নি কোনো নিয়ম।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যবস্থাপনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবক প্রতিনিধিকে না জানিয়ে প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গোপনে বকশীগঞ্জ উপজেলার উলফাতুন নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ২৫ ডিসেম্বর প্রবেশপত্র দিয়ে ২৭ ডিসেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। 
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে স্কুল থেকে সটকে পড়েন প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন। দুপুর ২টায় স্কুল ফাঁকা হয়ে যায়। শুধু আব্দুল খালেক মোশারফ নামে একজন সহকারী শিক্ষককে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বলে দুপুরেই ছুটি দেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক একটু আগে স্কুল থেকে বাড়িতে চলে গেলেন।
আয়া পদে চাকরিপ্রত্যাশী সাথি আক্তার বলেন, ‘আয়া পদে চাকরির জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক আমার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়েছেন। পরীক্ষার তারিখ হয় ২৫ ডিসেম্বর। কিন্তু আমিসহ অনেকেই ২৫ ডিসেম্বর বকশীগঞ্জ উলফাতুন নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ফেরত এসেছি। পরে জেনেছি নির্বাচনের পরে পরীক্ষা হবে। কিন্তু সে নিয়োগ পরীক্ষা গোপনে ২৫ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২৭ ডিসেম্বর নিয়েছেন।’ তাঁর ভাষ্য, এ ব্যাপারে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিকে জানালে তিনি বলেন, ‘তুমি তো নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওনি। তা ছাড়া তোমার চেয়ে যারা বেশি টাকা দিয়েছে তাকে চাকরি দেওয়া হয়েছে।’

সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে চাকরিপ্রত্যাশী শফিকুল ইসলাম ও ফরিদুল ইসলাম জানান, ২৭ ডিসেম্বরের নিয়োগ পরীক্ষার জন্য তারা চিঠি পেয়েছে ২৫ ডিসেম্বর। সে সময় তাদের নতুন কারিকুলামের ওপর প্রশিক্ষণ চলছিল। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
অভিভাবক সদস্য শাহ আলম বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে আমার মনোমালিন্য হয়েছে। তারা গোপনে টাকা-পয়সা নিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন। সানন্দবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় সঠিক নিয়ম মেনে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ফতেহুল বারী আকন্দ রবিউলের ভাষ্য, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টি ভালো করে জেনেশুনে কী করণীয় তা আপনি করবেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল বন্ধ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শীতের জন্য ক’দিন যাবত দুটো পর্যন্ত ছয়টি ক্লাস নেয় আরকি।’

সানন্দবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনকে স্কুলে পাওয়া যায়নি। বক্তব্য জানতে বারবার তার মোবাইল ফোনে কল দিলেও রিসিভ করেননি।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফা আক্তার বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আছে, তাদের কাছে শুনবেন। আমি 
এর সদস্য মাত্র।’

আরও পড়ুন

×