ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

মেয়াদ শেষ, ২৫ ভাগও হয়নি সেতুর কাজ

মেয়াদ শেষ, ২৫ ভাগও  হয়নি সেতুর কাজ

ধামরাইয়ের বেলিশ্বরে সেতু নির্মাণকাজ ছয় মাস ধরে বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুক্রবার তোলা ছবি সমকাল

মোকলেছুর রহমান, ধামরাই (ঢাকা)

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৪ | ০০:১৪

ঢাকার ধামরাইয়ের মহিশাষী-বাথুলি সড়কের বেলিশ্বর স্কুলের পাশে সেতু নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে মাসখানেক আগে। অথচ এখনও এক-চতুর্থাংশ কাজও সম্পন্ন হয়নি।

গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও কয়েকটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ছয় মাস আগেই কাজ বন্ধ করে ঠিকাদারের লোকজন চলে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করা যায়নি। ঠিকাদার বলছেন, সেতুর গোড়ায় পানি জমে থাকায় কাজ করতে পারছেন না।

ধামরাই উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের (ডিডিআইআরডব্লিউএসপি) ধামরাই-সাটুরিয়া সড়কের মহিশাষী বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সংযুক্ত বাথুলি বাসস্ট্যান্ড সড়কের বেলিশ্বর মোহনী মোহন উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় বিলের ওপর ২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের জুন মাসে। সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৪৫ লাখ ৩৯৩ টাকা। এলজিইডির বাস্তবায়নে সেতুটি নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নিরাপদ এন্টারপ্রাইজ। ২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও ২৫ ভাগ কাজও হয়নি। ছয় মাস আগেই নির্মাণকাজ বন্ধ করে ঠিকাদারের লোকজন চলে গেছে।
বেলিশ্বর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সেতুটি দৃশ্যমানই হয়নি। সেতু নির্মাণস্থলে পাইলিংয়ের কাজ আংশিক শেষ হয়ে একটি পিলারের কতকগুলো রড দাঁড়িয়ে আছে। পরবর্তী কাজের জন্য ঠিকাদারের কোনো মালপত্র সেখানে নেই। নেই কাজের কোনো সাইনবোর্ডও। পশ্চিম পাশ দিয়ে যে বিকল্প সড়ক করা হয়েছে চলাচলের জন্য, সেটিও অনেক ঢালু। নির্মাণস্থলে কোনো শ্রমিককেও পাওয়া যায়নি। এ সময় কথা হয় স্থানীয় আবদুল মজিদ, রনজিত পালসহ এলাকাবাসীর সঙ্গে। তারা জানান, গত ছয় মাস ধরে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয় মানুষ খুব দুর্ভোগে আছে। তারা প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। অটোরিকশা-ভ্যানে চলাচলের সময় বিকল্প রাস্তার এক প্রান্তে নেমে অন্য প্রান্তে গিয়ে ওঠেন। বৃষ্টির সময় প্রচণ্ড পিচ্ছিল হয়ে যায়। তখন ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে।

ভ্যানচালক হাসেম আলী জানান, বিকল্প রাস্তায় মালপত্র আনা-নেওয়ার সময় ভ্যান ঠেলে তুলতে হয় ওপরে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
সুতিপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবদুল আলিম আমান জানান, এ রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ধামরাই-সাটুরিয়া সড়কের মহিশাষী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাথুলি বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সংযুক্ত হয়েছে। ধামরাইয়ের সুতিপাড়া, কুশুরা, গাংগুটিয়া, বালিয়া, আমতা, চৌহাটসহ সাটুরিয়া উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ এ সড়ক দিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে। সেতুটির কাজ বন্ধ থাকায় যানবাহন চলাচলে প্রচণ্ড সমস্যা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটে। দ্রুত সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি শাকিল আহম্মদ জানান, সেতু নির্মাণস্থলে পানি থাকায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি সরে গেলেই কাজ শুরু করা হবে। এ ছাড়া কাজের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করবেন বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের  ধামরাই উপজেলা প্রকৌশলী তরুণ কুমার বৈদ্য জানান, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করা যায়নি। কয়েক দিন আগে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছেন, তারা আবার কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন। এরই মধ্যে কাজ শুরু না করলে বাতিল করে নতুন 
টেন্ডার দেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×