ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে স্বেচ্ছাশ্রমের নান্দনিক রূপ

টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে স্বেচ্ছাশ্রমের নান্দনিক রূপ

টঙ্গীর তুরাগতীরে ইজতেমা ময়দানে প্রস্তুতির কাজ করছেন মুসল্লিরা সমকাল

গাজীপুর ও টঙ্গী প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৪ | ০০:১৫

মাঘের হাড় কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে মুসল্লিদের কেউ তৈরি করছেন চটের ছাউনি দেওয়া প্যান্ডেল, কেউবা বিদেশি মেহমানদের জন্য টিনের ঘর। কেউ আবার বিশাল ময়দানের চারপাশে তৈরি করছেন কাঁচা-পাকা টয়লেট। এভাবেই রাতদিন চলছে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান প্রস্তুতি পর্ব। 

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা হাজারো মুসল্লি স্বেচ্ছায় যোগ দিয়েছেন ইজতেমার প্রস্তুতির নানা কাজে। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁশের খুঁটি স্থাপন এবং তাতে ত্রিপল টানানোসহ নানা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও। 
গতকাল শনিবার ইজতেমা ময়দানে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। এরই মধ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি তুরাগ নদের তীরে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার ৫৮তম আসর। এবারও দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে দেশের বৃহত্তম এ জমায়েত।

সূত্র বলছে, ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম পর্বে মাওলানা জুবায়েরপন্থিরা এবং চার দিন বিরতির পর ৯ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্বে জড়ো হবেন মাওলানা সাদপন্থির অনুসারীরা। 
ইজতেমা ময়দানে গিয়ে দেখা যায়, তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বিদের নির্দেশনায় জামাতভুক্ত মুসল্লিরা ময়দানের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ ইজতেমা ময়দানে নামাজের দাগ কাটছেন, কেউ বিদ্যুৎ সংযোগ ও প্যান্ডেলের চট সেলাই করছেন। মাঠের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে তৈরি করছেন চটের কামরা। তৈরি করা হচ্ছে মঞ্চ। 
গাজীপুর মহানগরের সাতাইশ এলাকা থেকে ইজতেমা ময়দানে কাজ করতে আসা মো. রহমত উল্লাহ বলেন, মারকাজুল কোরআন মাদ্রাসা থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে তিনি ময়দানে এসেছেন।  দেশ-বিদেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি এ ময়দানে আসবেন। তাদের থাকার জন্য ইজতেমা ময়দান প্রস্তুতিতে তারা অংশ নিচ্ছেন নাজাতের আশায়। 
বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, দুই পর্বের ইজতেমা সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। এ জন্য বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক প্রস্তুতিমূলক সভাও করা হয়েছে। মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তাসহ সব বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্ব ইজতেমা সম্পন্ন করার জন্য সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের ইজতেমায় আসা মুসল্লিরা সব সুবিধা পাবেন। 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, এবার ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তায় সাড়ে ৭ হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার ও রুফটপ থেকে পুরো ইজতেমা ময়দানের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। 
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জায়েদা খাতুনের উপদেষ্টা সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রায় সাড়ে ৮ হাজার অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে। ময়দানের চাহিদা অনুযায়ী ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ এবং ফগার মেশিনে মশক নিধনেরও কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। 
মাওলানা জোবায়ের অনুসারী মিডিয়া সমন্বয়কারী মুফতি জহীর ইবনে মুসলিম বলেন, বিশাল এ ময়দানে মজমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আল্লাহর ভয় যাদের অন্তরে আছে, তারাই স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে প্যান্ডেল তৈরি করছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন হাজারো মানুষ। তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ইজতেমায় মুসল্লির আগমন বেশি হবে বলে তারা মনে করছেন। সে হিসাবেই প্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×