মতলব আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে গত ১০ দিনে দুই হাজার ৭২৯ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি করা হচ্ছে, যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে চারগুণ বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ভর্তিকৃত রোগীর মধ্যে ৮২ শতাংশই শিশু। যাদের বয়স ৫ বছরের কম। এসব রোগীর বেশিরভাগ কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও শরীয়তপুর থেকে এসেছেন।

মতলব আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। তবে শীতকালীন এ ডায়রিয়া বা রোটা ভাইরাসে আক্রান্তদের  মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত  ১০ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৭২৯ জন। এদের মধ্যে ১৫৮৯ জন পুরুষ, ১১৪০ জন নারী এবং ৫ বছরের নিচে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ২২৩৯ জন। এছাড়া পাঁচ বছরের উপরে ১৫ বছর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯০ জন । 

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সাধারণত শীতকালে শিশুরা রোটা ভাইরাস জনিত ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হয়। 

হাসপাতালে ভর্তি তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, গত ১০ দিনে ব্রাহ্মণবড়িয়া থেকে ভর্তি হয়েছেন ৩৪ জন, চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ভর্তি হয়েছেন ৮২০ জন। এদের মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৯০ জন ও হাজীগঞ্জ উপজেলার ১০৮ জন । 

কুমিল্লার সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে ভর্তি হয়েছেন ১১৯২ জন। এদের মধ্যে দেবিদ্বার উপজেলার ১৭৬ জন, চান্দিনার ১৬৬ জন, বরুড়ার ১০৮ জন এবং মুরাদনগর উপজেলার ১১৪ জন। লক্ষ্মীপুর থেকে ভর্তি হয়েছেন ৫৯৯ জন, এদের মধ্যে রায়পুর উপজেলার ৩০৬ জন ও লক্ষ্মীপুর সদরের ১৮৮ জন। 

নোয়াখালী থেকে ৫৫ জন এবং শরীয়তপুর থেকে ১৬ জন ভর্তি হয়েছেন। ভর্তিকৃত প্রাপ্ত বয়স্ক রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা থেকেই প্রাপ্ত বয়স্ক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী বেশি ভর্তি হয়েছেন। 

হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে রায়পুরের ইয়াসমিন আক্তার (৩৫) জানান, তার পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে তিন জনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি শুক্রবার দুপুরে আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে ভর্তি হন। এর আগে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। 

রায়পুর পৌরসভা থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন হোসনে আরা বেগম নামে এক রোগী। তাদের ধারণা পৌরসভার সাপ্লাইর পানি পান করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা। শুক্রবার রাতে চাঁদপুরের কচুয়া থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৫ মাসের শিশু আরিয়ানকে নিয়ে ভর্তি হন তার মা জাহেদা বেগম। তিনি জানান, এখনো তার সন্তানের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে । তবে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের বারান্দায় অতিরিক্ত শয্যা পেতে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। 

মতলব আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ডাক্তার চন্দ্রশেখর দাস জানান, ডায়রিয়ায় শিশুর পাতলা পায়খানার সঙ্গে বমি এবং জ্বর থাকতে পারে। এর চিকিৎসা খুব সহজ, শিশুকে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি মায়ের বুকের দুধ এবং ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুদের প্রতিদিন একটি করে বেবি জিংক ট্যাবলেট এক চামচ পানিতে গুলিয়ে ১০ দিন খাওয়াতে হবে । তবে স্যালাইন খাওয়ানোর ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকতে হবে । পুরো এক প্যাকেট স্যালাইন অবশ্যই আধা লিটার পানিতে গুলে নিতে হবে। 

তিনি বলেন, পানি স্বল্পতার লক্ষণসমূহ যেমন শিশু একদম নেতিয়ে যাওয়া, চোখ ডেবে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, বুকের দুধ টেনে খেতে না পারা, ঘণ্টায় তিন বার বা তার বেশি বমি হওায়া, পায়খানার সঙ্গে রক্ত এবং খিঁচুনি হলে শিশুকে বিলম্ব না করে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।

বিষয় : মতলব আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু আক্রান্ত

মন্তব্য করুন