দিনাজপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে চুরি হয়ে যাওয়ার ২০ ঘণ্টা পর এক নবজাতকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত শিউলি আরা (৩৫) নামে এক নারীকে আটকও করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়ে হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি করে। আর চুরি যাওয়া শিশুটি ফিরে পেয়ে তার মা হাউমাউ করে কেঁদে পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত শিউলি আরা সদর উপজেলার ৪নং শেখপুরা ইউনিয়নের জয়দেবপুর বালাপাড়ার মোস্তাফিজারের স্ত্রী।

দিনাজপুর পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার অভিযান চালায় পুলিশ। চুরি হওয়ার ২০ ঘণ্টার মধ্যে সকাল ১০টার দিকে আমরা ওই নবজাতককে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। এ ঘটনায় একটি থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আমরা শিউলি আরা নামে একজনকে আটক করেছি।

পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনের কোলে উদ্ধার করা শিশু

তিনি বলেন, আটক হওয়া শিউলি আরা আমাদেরকে কাছে নবজাতক চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রথম স্বামীর সংসার ভেঙ্গে যাওয়ার পরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। প্রথম স্বামীর ঘরে দু’টি সন্তান থাকলেও দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে তার কোনো সন্তান হচ্ছিল না। এতে করে দ্বিতীয় স্বামীর সংসার ভেঙ্গে যেতে পারে এই আশঙ্কা থেকে তিনি নবজাতক চুরি করেন।

সন্তানকে ফিরে পেয়ে ওই নবজাতকের মা জায়েদা বেগম বলেন, ‘গতকাল দুপুর থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত আমার প্রায় ২৩ ঘণ্টা কীভাবে কেটেছে তা আমিই জানি। ১০ মাস যে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেছি, সেই সন্তানকে জন্ম দেওয়ার ৫ ঘণ্টার মধ্যেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। এখন আমার বাচ্চাকে ফিরে অনেক ভালো লাগছে। পুলিশ অনেক কষ্ট করে আমার সন্তান আমার কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে। তাই তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমি চির কৃতজ্ঞ তাদের কাছে। আর যে আমার বাচ্চাকে চুরি করছিল তার বিচার চাই।’

নবজাতকের বাবা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘বাচ্চা হারানোর কথা শুনে আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছিল না আমার বুকের মানিককে চুরি করে নিয়ে গেছে। চুরি হয়ে যাওয়ার পর থেকেই নানান চিন্তা মাথায় ভর করেছিল। নানান অজানা আশঙ্কা কুরে কুরে খাচ্ছিল। পুলিশ ভাইয়েরা আমার সন্তানকে সুস্থ ভাবে ফিরিয়ে দিল, আল্লাহ যেন তাদের ভালো করেন। এখন আমি অনেক খুশি।’

এর আগে সোমবার সকালে প্রসব ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন চিরিরবন্দর উপজেলার কারেন্টহাট এলাকার আব্দুল লতিফের স্ত্রী জায়েদা বেগম। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তিনি স্বাভাবিকভাবে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। দুপুরের খাবারের সময় হাত-মুখ ধোয়ার জন্য গেলে বোরখা পরিহিত এক নারী কিছু সময়ের জন্য নবজাতকটির দেখাশোনা করবেন বলে জানান। কিন্তু শিশুর মা ফিরে এসে দেখেন ওই নারীসহ নবজাতকটি নেই। বিষয়টি তারা হাসপাতালে দায়িত্বরতদের জানালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ হাসপাতালে এসে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে এক নারীকে শনাক্ত করে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।